পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা দিবস উপলক্ষে  ধন্যধান্য এডিটোরিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজ্যে প্রথমবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে আগের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে অতীতে বাংলার মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।

বিশ্বকর্মা যোজনার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, তিনি বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ হাতের কাজ, হস্তশিল্প এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে জেলাশাসকদের বিশ্বকর্মা যোজনার কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, ভারত সরকারের একাধিক প্রকল্পও অতীতে পশ্চিমবঙ্গে চালু করতে দেওয়া হয়নি। তবে এগুলি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে করা রাজনৈতিক অভিযোগ।

এদিন অন্নপূর্ণা দিবসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় রাজ্যের প্রায় এক কোটি ৬০ লক্ষ মহিলা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিয়োবার্তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর এবং পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার মতো প্রকল্পের কথাও বলেন তিনি।

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ১৬ অগস্ট পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত চালু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কারিগর ও ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের সরকারি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিশ্বকর্মা যোজনাকে ঘিরে রাজ্যের বর্তমান সরকারের অবস্থানও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a comment