তিলোত্তমার উৎসবের মানচিত্রে এবার নতুন সংযোজন পার্ক স্ট্রিটের দুর্গাপুজো। বড়দিন কিংবা ইংরেজি নববর্ষের সময় যে রাস্তা আলোয় ঝলমল করে ওঠে, সেই পার্ক স্ট্রিটেই এবার প্রথমবারের জন্য আয়োজিত হতে চলেছে শারদোৎসব। কলকাতা সনাতনী সংঘের উদ্যোগে এই পুজোর ভাবনায় উঠে আসছে মহাদেবের নানা রূপ। শঙ্কুদেব পাণ্ডার উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোয় দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে শিবের রুদ্ররূপ, তাণ্ডব থেকে শুরু করে পার্বতীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিভিন্ন আখ্যান।
বুধবার অ্যালেন পার্কে ভূমিপুজোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। ঢাকের বাদ্যি ও শঙ্খধ্বনির মধ্যে প্রকাশ করা হয় পুজোর থিম সং। শঙ্কুদেব পাণ্ডা জানান, প্রচলিত খুঁটিপুজোর পরিবর্তে সনাতনী রীতি মেনেই ভূমিপুজোর মাধ্যমে উৎসবের সূচনা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এবারের আয়োজন দর্শকদের জন্য একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
পুজোর মূল ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে শিবের তাণ্ডব। পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, রাজা দক্ষের আয়োজিত যজ্ঞে শিব অপমানিত হওয়ায় সতী দেহত্যাগ করেন। স্ত্রীকে হারিয়ে শোকে-ক্রোধে বিধ্বস্ত মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব শুরু করেন। শিবের সেই নটরাজ রূপকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে এবারের মণ্ডপের শিল্পভাবনা।
তবে শুধুমাত্র ধ্বংস বা প্রলয়ের ছবি নয়, শিবের সৃষ্টিশীল সত্ত্বাকেও মণ্ডপে তুলে ধরা হবে। শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনায় শিবের তাণ্ডবের পাশাপাশি ফুটে উঠবে শিব-পার্বতীর বিবাহের দৃশ্যও। অর্থাৎ ধ্বংসের প্রতীক তাণ্ডবের সঙ্গে প্রেম, সৃষ্টি ও ছন্দের ভাবনাকেও একসঙ্গে প্রকাশ করবে মণ্ডপ।
মহালয়া থেকেই অ্যালেন পার্কে শুরু হবে একাধিক সাংস্কৃতিক আয়োজন। দর্শকদের জন্য বিনামূল্যে থাকবে বলিউডের পরিচিত শিল্পীদের অনুষ্ঠান। অষ্টমীতে বারাণসী থেকে আসা পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণে হবে অঞ্জলি। অষ্টমীর রাত থেকে নবমী পর্যন্ত থাকছে জাগরণের আয়োজন। আর দশমীতে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে শেষপর্বে পৌঁছবে উৎসব।
বাঙালির ঐতিহ্য, পুরাণের আখ্যান এবং আধুনিক শহুরে আবহ—এই তিনের সমন্বয়েই পার্ক স্ট্রিটে প্রথম দুর্গাপুজোকে আলাদা মাত্রা দিতে চাইছে কলকাতা সনাতনী সংঘ।

Leave a comment