পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় এক বিধবা মহিলার গলাকাটা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকালে বাদরা গ্রামের ঘোষপাড়া এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় চিন্তামনি মণ্ডল নামে ওই মহিলার রক্তাক্ত দেহ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। তবে হত্যার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।

জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে চিন্তামনির স্বামী অসুস্থতায় মারা যান। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে কর্মসূত্রে ভিন্‌রাজ্যে থাকেন। ছেলের পাঠানো টাকাতেই মায়ের সংসার চলত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

চিন্তামনির বাড়ির পাশেই থাকেন তাঁর ভাসুর প্রশান্ত মণ্ডল ও তাঁর পরিবার। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভাসুরের সঙ্গে চিন্তামনির সম্পর্ক ভালো ছিল না। সেই কারণে পারিবারিক কোনও বিবাদের জেরে এই খুন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি সম্পত্তি নিয়ে কোনও বিরোধ ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

শুক্রবার সকালে দীর্ঘক্ষণ চিন্তামনিকে দেখা না যাওয়ায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। এরপর যমুনা মণ্ডল নামে এক প্রতিবেশী তাঁকে ডাকতে বাড়িতে যান। বাড়ির দরজা খোলা ছিল। ভিতরে ঢুকেই মেঝেয় চিন্তামনির রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে প্রতিবেশীদের খবর দেওয়া হয়। খবর যায় কাটোয়া থানাতেও।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাটোয়া হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতের দুই আত্মীয়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা বলে জানা গিয়েছে।

খুনের সময় বাড়িতে কে বা কারা ছিল, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং হত্যার পিছনে পারিবারিক বিবাদ নাকি সম্পত্তি সংক্রান্ত কারণ রয়েছে সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Leave a comment