আইপ্যাক মামলায় এখনই কোনও সিদ্ধান্ত জানাল না সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি শেষ হয়েছে। গত জানুয়ারিতে কলকাতায় আইপ্যাকের দফতরে ইডির তল্লাশির সময় সেখানে পৌঁছেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছিল ইডি। সেই মামলার রায় আপাতত স্থগিত রেখেছে শীর্ষ আদালত।
শুনানিতে মমতার আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, সরকার বদলের পর এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তাঁর বক্তব্য, মমতা যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত। কিন্তু এখন তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী নন। রাজ্য সরকার চাইলে নিজেরাই সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তার জন্য শীর্ষ আদালতের নির্দেশের প্রয়োজন নেই বলেই সওয়াল করেন তিনি।
এই বক্তব্যের পরেই রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি পি কে মিশ্র। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্য সরকার নিজে থেকে কেন এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না?
ইডির হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু। তিনি জানান, এই মামলায় আবেদনকারী ইডি, রাজ্য সরকার নয়। তাই রাজ্য সরকারের হয়ে তিনি কোনও বক্তব্য রাখতে পারেন না। রাজু আরও বলেন, অভিযোগ শুধু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নয়, একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেও রয়েছে। তাঁরা এখনও কর্মরত। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগে তাদের বিরুদ্ধেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলে তা কতটা যুক্তিসঙ্গত হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রায় ঘোষণা স্থগিত রাখে আদালত।
গত ৮ জানুয়ারি বেআইনি কয়লা পাচার ও আর্থিক তছরুপের তদন্তে কলকাতায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস ও বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে হাতে সবুজ ফাইল নিয়ে তাঁকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন মমতা। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ইডি।

Leave a comment