মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানানোর দু’দিনের মধ্যেই চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের সভা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে পুরনো মামলাগুলির ফাইল খোলার নির্দেশ দিলেন পুলিশকে। একই সঙ্গে চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ায় দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের কথাও বলেন তিনি।

শুভেন্দুর অভিযোগ, বাম আমল থেকে তৃণমূলের শাসনকাল পর্যন্ত আদিবাসী ও সনাতনীদের জমি দখল হয়েছে। সেই জমি ফেরানোর দায়িত্ব পুলিশকে নিতে হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ থাকলে তা ভেঙে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ায় চা বাগানের জমি দখলের অভিযোগ নিয়েও সরব হন শুভেন্দু।

ইসলামপুরের পুলিশ সুপার-সহ ডিআইজি ও আইজিকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চোপড়ার বিধায়কের বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলি ফের খতিয়ে দেখতে হবে। জমি দখলের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং পঞ্চায়েত ভোটের পর যাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধেও নতুন করে এফআইআর করার নির্দেশ দেন তিনি।

হামিদুলকে ‘মাফিয়া’ ও ‘গুন্ডা’ বলেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। আগামী দিনে চোপড়া ও ইসলামপুরে গিয়ে পরিস্থিতি দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় কার কতটা দাপট, তা দেখে নেওয়া হবে। জমি দখল ও বালি চুরির মতো অভিযোগের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, রায়গঞ্জে শুভেন্দুর সভায় এদিন দেখা যায়নি গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানি ও চাকুলিয়ার বিধায়ক মিনহাজুল আরফিন আজাদকে। অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হলে মিনহাজুল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নেতা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন হামিদুল। তার পর বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের সভা থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে সরব হলেন শুভেন্দু। উত্তর দিনাজপুরের একাধিক এলাকায় জমি উদ্ধারে প্রশাসনকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশও দিলেন তিনি।

Leave a comment