শালবনীর জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি সিআইডির। মামলায় ধৃত সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সেই জবানবন্দিতে সুমিত জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর কোষাধ্যক্ষের নির্দেশেই একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করেছিলেন তিনি।
বিএনএসএস-এর ১৮০ ধারায় সুমিতের এই বয়ান নথিভুক্ত হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। যদিও জবানবন্দিতে করা এই দাবির সত্যতা যাচাই করার প্রক্রিয়া তদন্তের অংশ বলেই জানা যাচ্ছে। সিআইডি সূত্রে দাবি, টাকা লেনদেনের নেপথ্যে কারা ছিলেন এবং অর্থের উৎস কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শালবনী জমি মামলায় সুমিতকে গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে তাঁকে আট দিনের জন্য সিআইডি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও। এর আগে রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল, সুমিতের অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে দাবি করেছিল তদন্তকারী সংস্থা।
সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, হেফাজতে থাকাকালীন সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাঁর ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জামিনের আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিআইডির হেফাজতেই থাকবেন তিনি।
এই মামলার তদন্তে সুমিত রায়ের ভূমিকা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। দীর্ঘদিন তাঁর খোঁজ না মেলায় তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। পরে সেখান থেকেই সুমিতকে গ্রেফতার করা হয় বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা যায়।
সিআইডির তদন্তে ইতিমধ্যেই শালবনীর জমি লেনদেনের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। চার্জশিটেও জমি সংক্রান্ত নথি জাল করা এবং বেআইনি লেনদেনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের তালিকায় অভিষেকের প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষীদেরও সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
এখন সুমিতের জবানবন্দিতে করা এই দাবিকে কেন্দ্র করে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেটাই নজরে। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক লেনদেনের সূত্র ধরে আরও কারও ভূমিকা সামনে আসে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a comment