ধনতেরসের আগে সোনা-রুপোর দামে বড়সড় পতন। শনিবার কলকাতার বাজারে দুই ধাতুরই দর অনেকটা নেমেছে। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির (SSBC) হিসাব অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবরের তুলনায় ৩১ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার গ্রামপ্রতি বিক্রয়মূল্য কমেছে ৩১৫ টাকা। ১৮ ও ২৪ ক্যারেট সোনার দামও কমেছে।

শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ৯৯৫ বিশুদ্ধতার ফাইন গোল্ডের দাম ছিল গ্রামপ্রতি ১৩,৭৫১ টাকা। আগের দিন এই দর ছিল ১৪,০৮৩ টাকা। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় গ্রামপ্রতি ৩৩২ টাকা কমেছে।

২২ ক্যারেট সোনার গ্রামপ্রতি বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩,০৬৫ টাকা। শুক্রবার এই দাম ছিল ১৩,৩৮০ টাকা। অর্থাৎ কমেছে ৩১৫ টাকা। কেনার দরও একদিনে ৩০২ টাকা কমে হয়েছে ১২,৫১৩ টাকা।

১৮ ক্যারেট সোনার দামও নিম্নমুখী। শুক্রবার গ্রামপ্রতি ১০,৯৮৫ টাকা থাকলেও শনিবার তা কমে হয়েছে ১০,৭২৫ টাকা। অর্থাৎ এই বিশুদ্ধতার সোনায় গ্রামপ্রতি ২৬০ টাকা সাশ্রয়।

সোনার পাশাপাশি রুপো কিনতেও এখন আগের তুলনায় কম খরচ হবে। ৯৯৯ বিশুদ্ধতার এক কেজি রুপোর দাম শুক্রবার ছিল ১,৮৮,০৯৭ টাকা। শনিবার সেই দর কমে হয়েছে ১,৮২,০৭৪ টাকা। একদিনে কেজিপ্রতি দাম পড়েছে ৬,০২৩ টাকা।

কেন এই দরপতন?

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পতন হয়েছে। ৩০ অক্টোবর স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ৩.৫ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৩,৮৮০.৯৭ ডলারে নেমে আসে। রুপোর দামও প্রায় ৬.৫ শতাংশ কমে ৫০ ডলারের নীচে চলে যায়। তার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও।

আমেরিকায় সুদের হার বাড়তে পারে, এমন জল্পনাও সোনার দামে চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন অর্থনীতির বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি দেখে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সুদের হার বাড়লে সোনার তুলনায় বন্ডের মতো সুদ পাওয়া যায়, এমন বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ে। ফলে সোনা থেকে মুখ ফেরাতে পারেন লগ্নিকারীদের একাংশ।

অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধিও পরিস্থিতি আরও কঠিন করেছে। তেলের দাম বাড়লে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই আশঙ্কা থেকে আমেরিকায় সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বেড়েছে।

শেয়ার বাজারের পরিস্থিতিও এর পিছনে অন্যতম কারণ। প্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারে দরপতনের জেরে লোকসান সামলাতে কয়েকজন বিনিয়োগকারী সোনা ও রুপো বিক্রি করেছেন বলে বাজার মহলের মত। তাতেই মূল্যবান ধাতুর উপর বিক্রির চাপ বেড়েছে।

তবে এই দর দেখেই গয়নার চূড়ান্ত দাম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত মূল্য নির্দেশক দর। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি এবং গয়নার মজুরি বা মেকিং চার্জ যুক্ত হবে। ফলে গয়না কিনতে গেলে দোকানে শেষ পর্যন্ত যে দাম দিতে হবে, তা এই দরতালিকার তুলনায় বেশি হবে।

Leave a comment