‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর আওতায় থাকার যোগ্যতার শর্ত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে যেসব সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীর ছেলে-মেয়ের নাম এই প্রকল্পের সাধারণ তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এবার থেকে তাঁরা ‘নন পিকুনিয়ারি বেনিফিসিয়ারি’ বা অ-আর্থিক সুবিধাভোগী হিসেবে স্কিমের আওতায় থাকা হাসপাতালে সরকারি নির্ধারিত রেটে চিকিৎসা করাতে পারবেন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই নতুন ব্যবস্থা চালু হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
নতুন নিয়মে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাবেন এই শ্রেণির সুবিধাভোগীরা। তবে তাঁদের কাছ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাণিজ্যিক রেট বা অতিরিক্ত কোনও চার্জ নিতে পারবে না। রাজ্য সরকার হেলথ স্কিমের জন্য যে নির্দিষ্ট রেট নির্ধারণ করেছে, সেই হারেই চিকিৎসার বিল করতে হবে। ফলে সাধারণ বাণিজ্যিক রেটের তুলনায় অনেক কম খরচে চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে। যদিও চিকিৎসার পুরো খরচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।
এতদিন পর্যন্ত সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগীদের ছেলে-মেয়েরা নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর আওতায় ক্যাশলেস বা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেতেন। ছেলেদের ক্ষেত্রে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত অথবা নিজে উপার্জন শুরু করা পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যেত। দুটি শর্তের মধ্যে যেটি আগে পূরণ হত, সেই সময়েই স্কিম থেকে তাঁর নাম বাদ যেত।
মেয়েদের ক্ষেত্রে অবিবাহিত থাকা পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট বয়সসীমা ছিল না। তবে উপার্জন শুরু করলে বা বিয়ে হয়ে গেলে স্কিম থেকে নাম বাদ দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। বিধবা বা বিবাহবিচ্ছিন্না মেয়েরা অবশ্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ফের এই সুবিধার তালিকায় যুক্ত হতে পারতেন। ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই শারীরিক বা মানসিকভাবে স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা থাকলে কোনও বয়সসীমা ছিল না এবং আজীবন এই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল।
ফলে দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগের চিকিৎসা চলাকালীন কোনও সন্তানের ক্ষেত্রে হেলথ স্কিমের আওতায় থাকার যোগ্যতার শর্ত শেষ হয়ে গেলে তাঁর নাম সাধারণ সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে বাদ যেত। এরপর স্কিমের প্যানেলভুক্ত হাসপাতালগুলিতে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসার সুযোগও আর থাকত না। সাধারণ বাণিজ্যিক রেটে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হত।
এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই নতুন ব্যবস্থা চালু করছে অর্থ দফতর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত বয়স, নির্ভরশীলতা, আয়, বৈবাহিক অবস্থা বা অন্য কোনও যোগ্যতার শর্ত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে যাঁদের নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর সাধারণ সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের নতুন অ-আর্থিক সুবিধাভোগী শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
তবে এই নতুন শ্রেণিতে নাম থাকলেও কোনও আর্থিক সুবিধা মিলবে না। অর্থ দফতর স্পষ্ট করেছে, এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিকে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ নিজেকেই বহন করতে হবে। এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তির ফলে ক্যাশলেস চিকিৎসা, চিকিৎসার খরচের রিইম্বার্সমেন্ট বা হেলথ স্কিমের অধীনে অন্য কোনও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার তৈরি হবে না।
এই নতুন শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক নয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগীর অনুরোধের ভিত্তিতেই তাঁদের যোগ্য সন্তানদের এই তালিকায় যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ আর্থিক সুবিধা না মিললেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর আওতায় থাকা হাসপাতালগুলিতে সরকারি নির্ধারিত রেটে চিকিৎসা করানোর সুযোগ বজায় থাকবে।

Leave a comment