নেপালের মানাসলু পর্বতশৃঙ্গে ভয়াবহ তুষারধসে প্রাণ হারালেন বাঙালি পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহ। তাঁর সঙ্গে থাকা এক শেরপা গাইডও এই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। প্রায় সাত ফুট বরফের নীচে চাপা পড়া অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে দু’জনের দেহ।
ধ্রুবজ্যোতি নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কাঠুরিয়াপাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে জার্মানিতে থাকতেন তিনি। মানাসলু অভিযানে অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন ধ্রুবজ্যোতি। অভিযানের দায়িত্বে থাকা মাকালু অ্যাডভেঞ্চারের তরফে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহন লামসাল জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ধ্রুবজ্যোতি এবং তাঁর শেরপা ক্যাম্প ২ থেকে আরও উঁচুতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শনিবার রাতে ক্যাম্প ৩ এলাকায় তাঁদের তাঁবুর উপর আচমকা তুষারধস নামে। প্রচুর পরিমাণ বরফের নীচে চাপা পড়ে যায় তাঁবুটি।
শনিবার রাতেই তাঁদের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর আর কোনও বার্তা বা যোগাযোগ না পাওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে ক্যাম্প ৩-এর দিকে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর প্রায় সাত ফুট বরফের নীচে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বরফ সরিয়ে দু’জনের দেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।
অভিযানকারী দলের আরও ছয় সদস্য অবশ্য নিরাপদে রয়েছেন। আবহাওয়ার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ক্যাম্প ২ থেকেই নীচে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ধ্রুবজ্যোতি ও তাঁর শেরপা আরও উপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়ই তুষারধসের কবলে পড়েন তাঁরা। দেহ দুটি বর্তমানে বেস ক্যাম্পে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে হেলিকপ্টারে করে দেহ কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
৮,১৬৩ মিটার উচ্চতার মানাসলু বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। চলতি মরশুমে এর আগে এক সিঙ্গাপুরের পর্বতারোহী এবং এক নেপালি গাইডের মৃত্যু হয়েছিল। ধ্রুবজ্যোতি ও তাঁর শেরপার মৃত্যুর পর চলতি মরশুমে মানাসলুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।

Leave a comment