রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, আপাতত তিনি আর এলাকায় গিয়ে প্রচার করবেন না। দলের কর্মীদের গ্রেফতার ও পুলিশের হয়রানির অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে ভোটের দিন ‘ভোট লুঠ’ রুখতে তিনি মাঠে থাকার কথাও জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে হুমায়ুনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে হুমায়ুন বলেছিলেন, “ভোট লুঠ রুখতে গিয়ে খুন হলে হবে।” তাঁর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই পুলিশ পর্যবেক্ষকদের পদক্ষেপ করার কথা বলেছেন শুভেন্দু।
রবিবার রাতে উত্তর দমদম বিধানসভার মহাজাতি নগরে প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তপন শিকদারের আবক্ষ মূর্তি ও বিধায়ক কার্যালয় উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই রেজিনগরের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, হুমায়ুন কীভাবে সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন, তা নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের দেখা উচিত। প্রয়োজন হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
রেজিনগরের নির্দল প্রার্থী সইফুল ইসলামের গ্রেফতারির পরেই হুমায়ুন প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপনির্বাচনের ফল নিয়েও নিজের পূর্বাভাসের কথা তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। ৬ অক্টোবর সন্ধ্যাতেই পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আগের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ১৭৭-এর বেশি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার কথাও স্মরণ করান মুখ্যমন্ত্রী।
রেজিনগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে আসার প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, একটি কেন্দ্রে প্রার্থীই নেই, আর অন্য কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থীর জামানত বাঁচাতে ১৬ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। রেজিনগরের রবিউল আলম চৌধুরীকেও নিশানা করে তাঁর দাবি, ভোটের ফলাফলে তাঁর নাম ও প্রতীক—দুটিই মুছে যাবে এবং জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

Leave a comment