মালদার মানিকচক ও ভূতনি এলাকায় গঙ্গার লাগাতার ভাঙন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নদীর গতিপথে পরিবর্তনের আশঙ্কায় ফরাক্কা ব্যারেজের ভবিষ্যৎ এবং কলকাতা বন্দরের নাব্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট জমা দিয়েছে রাজ্যের সেচ দফতর।

রাজ্য প্রশাসনের মতে, গঙ্গার ভাঙনের মতো বৃহৎ ও জটিল সমস্যা শুধুমাত্র একটি রাজ্যের উদ্যোগে মোকাবিলা করা কঠিন। নদীর উজান থেকে ভাটির প্রবাহ, পলি জমার ধরন এবং নদীর তলদেশের পরিবর্তন সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিহার ও ঝাড়খণ্ডকে যুক্ত করে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মানিকচক ও ভূতনি এলাকায় গঙ্গার ভাঙনে ইতিমধ্যেই বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জায়গায় নদীর পাড় ক্রমশ সরে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নদীর গতিপথ আরও পরিবর্তিত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গঙ্গা ও ফুলহার নদীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে আসার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে।

ভাঙনের কারণ চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। সেচ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, আইআইটি রুরকির সহযোগিতায় প্রকল্পের ব্লুপ্রিন্ট তৈরির কাজ হয়েছে। একইসঙ্গে আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। নদীর জলপ্রবাহ, গভীরতা, তলদেশের গঠন এবং পলি সঞ্চয়ের বিষয়গুলি বিশ্লেষণ করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পরিস্থিতির সঙ্গে ফরাক্কা ব্যারেজের জলপ্রবাহের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফরাক্কার মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় জল পৌঁছনোর ফলে হুগলি নদীর নাব্যতা বজায় রাখার বিষয়টি সামনে আসে। তাই গঙ্গার গতিপথে বড় পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতে কলকাতা বন্দরের নাব্যতার উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে কলকাতা বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কোনও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। বিষয়টি সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এখন কেন্দ্রীয় অর্থসাহায্য, বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষা এবং তিন রাজ্যের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনার দিকেই নজর। দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে মালদার ভাঙনপ্রবণ এলাকা রক্ষার পাশাপাশি বৃহত্তর গঙ্গা অববাহিকার জল ব্যবস্থাপনাতেও কার্যকর পদক্ষেপ করা সম্ভব হতে পারে।

Leave a comment