কর্ণসুবর্ণে ভয়াবহ পুলকার দুর্ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল পূর্ব রেল। কর্ণসুবর্ণ-খাগড়াঘাট রোডের তিনটি নন-ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিংয়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রেলগেট। নতুন ব্যবস্থায় রেলগেটের পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি ট্রেনের গতিবিধি শনাক্ত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

গত ১৭ জুলাই কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝামাঝি গোবিন্দপুর রেলগেটের কাছে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দূরপাল্লার ট্রেনের ধাক্কায় একটি পুলকার ছিটকে যায়। ওই ঘটনায় চারজন স্কুল পড়ুয়া এবং এক বৃদ্ধ সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নন-ইন্টারলকড রেলগেট এবং গেটম্যানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

দুর্ঘটনার পর কর্ণসুবর্ণ ও সংলগ্ন এলাকার লেভেল ক্রসিংগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে পূর্ব রেল। এরপর তিনটি NILC গেটে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টার রেলগেটের পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজর রাখতে পারবেন।

নতুন ব্যবস্থায় PN-ভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে গেটম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। একইসঙ্গে গেটের বুম ও লিভার লকিংয়ের অবস্থাও যাচাই করা সম্ভব হবে। RKT-ভিত্তিক ফিজিক্যাল অথেনটিকেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি LiDAR প্রযুক্তির সাহায্যে ট্রেনের আসা ও যাওয়া শনাক্ত করা যাবে।

বুধবার পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে নতুন রেলগেটগুলি পরিদর্শন করেন। তাঁর নেতৃত্বে একটি দল প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখে। গেটম্যানের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তাবিধি, গেট পরিচালনার নিয়ম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে জানতে চান তিনি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও খোঁজ নেওয়া হয়।

এরপর কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের ইন্টারলকিং প্যানেল পরিদর্শন করেন পূর্ব রেলের জিএম। কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে কথা বলে সিগন্যালিং প্যানেল, ট্রেন পরিচালনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলি পর্যালোচনা করা হয়।

পূর্ব রেলের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা প্রচলিত নিরাপত্তাবিধি বা কর্মীদের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের বিকল্প নয়। বরং বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টেশন মাস্টার ও গেটম্যানের মধ্যে যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য করা এবং পরিচালনাগত ত্রুটির ঝুঁকি কমানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

Leave a comment