এসএসকেএম হাসপাতালে আউটডোরের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়িয়ে দ্রুত টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হত। পরে সেই টাকার বিনিময়ে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হত জাল আউটডোর টিকিট।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতরা হলেন আশাদ আলি, মহম্মদ সাহিদ এবং ভিহিদ আহমেদ। আশাদ দক্ষিণ কলকাতার চামরু খান লেনের বাসিন্দা। সাহিদ ও ভিহিদ হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকার লিচুবাগানের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে ভবানীপুর থানার পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়দের লক্ষ্য করেই এই কারবার চালানো হত বলে অভিযোগ। টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখে সমস্যায় পড়া ব্যক্তিদের দ্রুত টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হত।

অভিযোগ, কেউ সেই প্রস্তাবে রাজি হলে তাঁর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হত। এরপর আসল টিকিটের বদলে জাল টিকিট তৈরি করে দেওয়া হত। সেই টিকিট হাসপাতালের আউটডোরে ব্যবহার করার চেষ্টা করতেন রোগী বা তাঁর পরিজনরা। এর ফলে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থাতেও অনিয়মের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতরা জেরক্সের দোকানে কাজ করতেন। ফলে জাল টিকিট তৈরির সঙ্গে তাঁদের কর্মস্থলের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের অনুমান, এই তিনজনের পিছনে আরও বড় একটি চক্র থাকতে পারে। সেই চক্রের অন্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কতদিন ধরে এই প্রতারণা চলছিল এবং কতজন রোগী বা তাঁদের পরিজন এর শিকার হয়েছেন, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a comment