এই নিয়ে এবার এশিয়াডে দশম সোনা এল ভারতের। দশম স্থান থেকে ভারত উঠে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে। প্রথমে ১১৩ম দিনের সকালেই তিরন্দাজিতে জোড়া সোনা, এরপর একটু বেলা হতেই আবার জোড়া সোনা ভারতের ঝুলিতে৷ পুরুষদের তিরন্দাজি ও শুটিং মিক্সড ট্র্যাপ ইভেন্টেও সোনা। প্রথমে নীরু ধান্ধা ও ক্যনান চেয়ানি ট্র্যাপ ইভেন্টে ও পরে পুরুষদের তিরন্দাজিতে চিনকে হারিয়ে সোনা আনলেন কুশল দালাল, সাহিল যাদব ও গণেশ থিরুমুরু।
ট্র্যাপ ইভেন্টে নীরু ধান্ধার ঝুলিতে যোগ হল আরও একটি পদক। ক্যনান চেয়ানিকে সঙ্গে নিয়ে মিক্সড ইভেন্টে সোনা জেতেন তিনি। যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারতীয় জুটি কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ফাইনালে সম্পূর্ণ অন্য ছন্দে দেখা যায় তাঁদের। একের পর এক ১০/১০ শট মেরে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করেন নীরু-ক্যনান। শেষ পর্যন্ত সোনাই আসে তাঁদের দখলে। এর আগে গতকাল দলগত বিভাগে রুপো জিতেছিলেন নীরু। পরে ব্যক্তিগত ট্র্যাপ ইভেন্টে সোনা জিতে নেন তিনি। ফলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পদকের সংখ্যা দাঁড়াল তিনে।
তিরন্দাজিতেও এদিন ভারতের সাফল্যের ধারা ছিল চোখে পড়ার মতো। কম্পাউন্ড আর্চারিতে প্রথমে সোনা জেতেন জ্যোতি সুরেখা ভেন্নাম, চিকিতা তানিপার্থী ও পৃথিকা প্রদীপ কমপাউ। ফাইনালে চিনকে ২৩৮-২৩৪ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তাঁরা। এর পর মিক্সড কম্পাউন্ড ইভেন্টেও আসে সোনা। দক্ষিণ কোরিয়ার জুটিকে শুটআউটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন সাহিল যাদব ও চিকিতা তানিপার্থী। এই সাফল্যের সঙ্গেই ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের টিকিটও নিশ্চিত করেছে ভারত।
পুরুষদের দলগত কম্পাউন্ড ইভেন্টেও চিনের বিরুদ্ধে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি ভারতের। প্রথম গেমে ৫৮-৬০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন কুশল, সাহিল ও গণেশরা। দ্বিতীয় গেমেও পিছিয়ে পড়ে ভারতীয় দল। তৃতীয় গেমে চিনের খেলোয়াড়দের ভুলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ গেমেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ভারতীয়রা।
সোনা নিশ্চিত করতে শেষ গেমে তিনটি বুলসআই প্রয়োজন ছিল। চাপের মুহূর্তে কোনও ভুল করেনি ভারতীয় দল। বরং চিনের একটি ৮ পয়েন্টের শটেই পরিষ্কার হয়ে যায় ম্যাচের ফল। শেষ পর্যন্ত সোনা ওঠে কুশল, সাহিল ও গণেশদের হাতে। একদিকে নীরু ধান্ধারের পদকের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে তিরন্দাজিতে একের পর এক সোনা—এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের দাপট এদিন আরও একবার সামনে এল।

Leave a comment