উৎসবের মরশুমে বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। ডিলারদের মজুতের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের অধিকাংশ এলাকায় একজন ডিলার সর্বোচ্চ ১,০০০ কুইন্টাল চিনি মজুত রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে চিনি হাতে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা বাজারে ছাড়তে হবে বলে ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার।
নতুন নিয়ম ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে। তবে কলকাতা ও তার বর্ধিত মহানগর এলাকা এবং অসমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২,০০০ কুইন্টাল পর্যন্ত চিনি মজুতের অনুমতি থাকছে।
চিনির মজুতসীমা নিয়ে চলতি বছরে এর আগেও পরিবর্তন করেছে কেন্দ্র। ১ আগস্ট ডিলারদের জন্য সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৪,০০০ কুইন্টাল। ১৫ সেপ্টেম্বর সেই সীমা কমিয়ে ২,০০০ কুইন্টাল করা হয়। এবার দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তা আরও কমিয়ে ১,০০০ কুইন্টাল করা হল।
উৎসবের সময়ে চিনির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় কোনও ব্যবসায়ী বেশি পরিমাণ চিনি গুদামে রেখে দিলে বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে। মজুতদারির মাধ্যমে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করে দামের উপর প্রভাব ফেলার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতি এড়াতেই নতুন নিয়ম আনা হয়েছে।
এবার মজুতের পরিমাণের পাশাপাশি সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ চিনি হাতে পাওয়ার পর তা দীর্ঘদিন গুদামে রেখে দেওয়া যাবে না। সরকারের লক্ষ্য, মিল থেকে ডিলার এবং সেখান থেকে পাইকারি ও খুচরো বাজার হয়ে দ্রুত পণ্য ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া।
এদিকে চিনির দাম কমার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্র। খাদ্য ও গণবণ্টন সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের সর্বোচ্চ স্তরের তুলনায় গড় খুচরো চিনির দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। মিল পর্যায়ে চিনির দাম কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
কেন্দ্রের তরফে পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে আবেদন করা হয়েছে, মিল পর্যায়ে দাম কমার সুফল যেন দ্রুত সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছয়। একই সঙ্গে কৃত্রিমভাবে চিনি জমিয়ে রেখে বাজারে সংকট তৈরি না করার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে।

Leave a comment