আকাশপথে যোগাযোগ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের। উড়ান ২.০ প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গে চারটি বিমানবন্দর তৈরির জন্য সোমবার নবান্নে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে মউ স্বাক্ষর হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দু’বছরের মধ্যে রাজ্যে চারটি বিমানবন্দর তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা এবং আলিপুরদুয়ারের হাসিমারায় বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য জমি ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরিকাঠামোর ব্যবস্থা করবে। বিমানবন্দরের পরিকাঠামো এবং বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত কাজে কেন্দ্রের তরফে সহযোগিতা করা হবে। রানওয়ে ও টার্মিনাল-সহ পরিকাঠামো উন্নয়নেও কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দরের প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার জমি না দেওয়ায় কলকাতায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ এগোয়নি। বর্তমানে বিমান পরিষেবা আরও বাড়াতে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুধু রাজ্যের মধ্যে বিমান যোগাযোগ নয়, আন্তর্জাতিক পরিষেবা নিয়েও কেন্দ্রের কাছে একাধিক দাবি রেখেছেন শুভেন্দু। কলকাতা থেকে অযোধ্যা, তিরুপতি-সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানগুলিতে সরাসরি বিমান চালুর আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতা থেকে ইউরোপ ও ইংল্যান্ডে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর আর্জিও রয়েছে তাঁর। বাংলায় একটি ফ্লাইং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট তৈরির বিষয়েও কেন্দ্রের সহযোগিতা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, আগামী ১০ বছরে উড়ান প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গে ২৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে বিমান পরিষেবার চাহিদা বাড়ছে। সেই কথা মাথায় রেখেই নতুন বিমানবন্দর তৈরির পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।

এর আগে থেকেই চারটি জায়গায় বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। ছররা, বালুরঘাট, হাসিমারা এবং কলাইকুন্ডাকে উড়ান প্রকল্পের আওতায় আনার কথা জানিয়েছিল রাজ্য। এবার সেই পরিকল্পনাতেই কেন্দ্র-রাজ্যের মউ স্বাক্ষর হল। ফলে আগামী দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হল।

Leave a comment