রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের কেউ। এবার তাঁর পরিবারেরই একজনের হাতে সরকারি চাকরির সুযোগ তুলে দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। গত ২৫ বছরের মধ্যে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবার এই সুবিধা পাবে। শুধু তৃণমূল আমল নয়, বাম জমানায় রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারও এই তালিকায় থাকছে।

কীভাবে মিলবে চাকরি? এ নিয়ে শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে রাজ্য। তারপর সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে নিজেদের জেলার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাতে হবে। নিহত ব্যক্তির পরিচয়-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেই আবেদন পৌঁছবে নবান্নে।

সরকারের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তাঁর কথায়, গত ২৫ বছরে ভোটকে ঘিরে বাংলায় যে হিংসা হয়েছে, তা কারও অজানা নয়। ভোটের পর খুনের ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। সেই সময় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর প্রশ্ন, বাম আমলের ১০ বছরের ঘটনাও কেন এই তালিকায় রাখা হচ্ছে? তাঁর অভিযোগ, সরকারি চাকরির নামে ঘুরপথে বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। গত ১৫ বছরে নিহতদের অনেককেই বিজেপি কর্মী বলে দেখানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁর। চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক নিয়ম ও নৈতিকতা মানা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

চাকরি স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, পরীক্ষা না দিয়ে কীভাবে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব? এর আগেও রাজনৈতিক হিংসায় নিহত এক ব্যক্তির স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার বদলের পর তাঁর চাকরি চলে যায় বলে দাবি প্রতিমার। হরিয়ানায় গো-মাংস খাওয়ার সন্দেহে খুন হওয়া এক ব্যক্তির স্ত্রীর চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেছেন তিনি। এবার যাঁদের চাকরি দেওয়া হবে, তাঁদের নিয়োগের ধরন এবং চাকরির স্থায়িত্ব কী হবে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন প্রতিমা।

এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকারও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর খুন হয়েছিলেন অভিজিৎ। তাঁর দাদার কথায়, রাজনৈতিক পরিচয় আলাদা হলেও পরিবারের কাউকে হারানোর যন্ত্রণা এক। সেই জায়গা থেকে বাম আমলে রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকেও চাকরির আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত ভাল। অভিজিৎ সরকারের খুনের মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন।

Leave a comment