আর মাত্র দিন তিনেক পরেই মহালয়া। শুরু হবে দেবীপক্ষ। তার আগে পুজোর শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত শহর থেকে জেলার মানুষ। কাজের ফাঁকে সময় বার করে জামাকাপড় থেকে পুজোর নানা জিনিস কিনতে বাজারে ভিড় করছেন অনেকেই। কিন্তু সেই বাজারে বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গে বুধবার থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হতে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারও পরিস্থিতি খুব একটা বদলাবে না।

কলকাতায় অবশ্য ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় অস্বস্তি থাকবে। ফলে পুজোর বাজারে বেরিয়ে বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই মিললেও ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল হতে পারেন অনেকেই।

উত্তরবঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কয়েকটি জায়গায় দু-এক পশলা ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার সঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হলেও শনিবার থেকে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা। তাপমাত্রাতেও আপাতত বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর একাধিক অক্ষরেখার প্রভাব রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা রয়েছে। বিহার থেকে ওড়িশা পর্যন্ত রয়েছে আরও একটি অক্ষরেখা। পাশাপাশি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে মধ্য মহারাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখারও প্রভাব রয়েছে। রাঁচি, রায়পুর এবং বারামতীর উপর দিয়ে এগোচ্ছে বর্ষার বিদায়রেখা। বিহার ও ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশ থেকেও বর্ষা বিদায়ের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Leave a comment