পুজোর ছুটিতে দিঘায় বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। সমুদ্রের পাড়ে ঘোরাঘুরি, ঢেউয়ের সঙ্গে খুনসুটি সব মিলিয়ে উৎসবের মরশুমে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে সৈকতে। কিন্তু আনন্দের মুহূর্তে একটু অসতর্ক হলেই ঘটতে পারে বিপদ। সেই কথা মাথায় রেখে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নতুন ব্যবস্থা চালু করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। এবার মোবাইল অ্যাপেই জানা যাবে দিঘার সমুদ্র সৈকতের কোন অংশে স্নান করা নিরাপদ, আর কোথায় রয়েছে বিপদের আশঙ্কা। অ্যাপটির নাম ‘সেফ ট্রিপ দিঘা’।

মঙ্গলবার এই অ্যাপের উদ্বোধন করেন পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা। আপাতত অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যবহার করা যাবে এটি। পুজোর মরশুমে দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ার আগে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।

অ্যাপটির বিশেষ সুবিধা হল রিয়েল-টাইম বিচ ম্যাপিং। অর্থাৎ, সমুদ্র সৈকতের কোন অংশে নামা নিরাপদ এবং কোথায় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে, তা জানা যাবে মোবাইল থেকেই। নিরাপদ এলাকা সবুজ রঙে চিহ্নিত থাকবে। অন্যদিকে, বিপজ্জনক জায়গা বোঝানো হবে লাল রঙে। ফলে সমুদ্রে নামার আগে পর্যটকরা সহজেই সতর্ক হতে পারবেন।

দিঘায় বেড়াতে গিয়ে অনেকেই সমুদ্রের স্রোত বা ঢেউয়ের তীব্রতা বুঝতে পারেন না। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে যাঁরা সৈকতে যান, তাঁদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নতুন অ্যাপের সাহায্যে বিপজ্জনক এলাকা সম্পর্কে আগেভাগে ধারণা পাওয়া গেলে দুর্ঘটনা এড়াতে সুবিধা হবে। তবে সমুদ্রের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই অ্যাপের তথ্যের পাশাপাশি পুলিশ ও লাইফগার্ডদের নির্দেশও মেনে চলতে হবে।

সমুদ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থাও রয়েছে অ্যাপে। কাছাকাছি পুলিশ বুথ কোথায় রয়েছে, তা জানা যাবে। পাশাপাশি থানার ডিউটি অফিসারদের ফোন নম্বরও পাওয়া যাবে। ফলে কোনও সমস্যায় পড়লে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, তা খুঁজতে পর্যটকদের বেশি সময় নষ্ট করতে হবে না।

সম্প্রতি মন্দারমণিতে সমুদ্রের জলে ভেসে এক নাবালক ও এক তরুণীর মৃত্যু হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা আরও এক যুবকের খোঁজ এখনও মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, আগামী দিনে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ-সহ আরও কিছু পরিষেবা এই অ্যাপে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর ছুটিতে দিঘায় ঘুরতে গিয়ে যাতে অসতর্কতার কারণে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

Leave a comment