বোনের বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ করতে গিয়ে বিপত্তি। ট্যাঙ্কের ভিতরে পড়ে যান বদির মল্লিক। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে ট্যাঙ্কে নামেন দিদি, তাঁর ছেলে এবং আরও দুই ব্যক্তি। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে মৃত্যু হল চারজনের। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তি। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের আঁতলা গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বোনের বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ করছিলেন বদির মল্লিক। কাজের সময় কোনওভাবে গভীর ট্যাঙ্কের ভিতরে পড়ে যান তিনি। দীর্ঘদিন ট্যাঙ্কটি ঢাকা থাকায় তার ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। ট্যাঙ্কে পড়ার পরই জ্ঞান হারান বদির।

ভাইকে ওই অবস্থায় দেখে তাঁকে উদ্ধার করতে ছুটে যান দিদি সারজিনা বিবি। কিন্তু তিনিও ট্যাঙ্কের ভিতরে পড়ে যান। মাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন সারজিনার ছেলে শেখ রবিউল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনিও ট্যাঙ্কে নেমে পড়েন। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তাঁরও জ্ঞান চলে যায়।

এর পর তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন আত্মীয়-প্রতিবেশী শেখ সাহেব এবং স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আবুকালাম। তাঁরাও ট্যাঙ্কের ভিতরে বিপদের মুখে পড়েন। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন গ্রামবাসীরা। পরে ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসকেরা বদির মল্লিক, সারজিনা বিবি, শেখ রবিউল এবং শেখ সাহেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর অসুস্থ শেখ আবুকালাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মোহনপুর থানার পুলিশ। মৃতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ট্যাঙ্কের ভিতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এই দুর্ঘটনা।

Leave a comment