কোলিয়ারিতে সোমবার সকালে আচমকা গ্যাস ও ধোঁয়া বের হতে দেখে আতঙ্ক ছড়ায় অণ্ডালের সিঁদুলিতে। কোলিয়ারির ৩ নম্বর পিটের কাছে প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে। পরে খনির ভিতর থেকে জলও বেরোতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোলিয়ারির এজেন্ট ও ম্যানেজার। তখনই জানা যায়, খনির নীচে দুই শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়। পরে দু’জনকেই বাইরে আনা সম্ভব হলেও তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে ৩ নম্বর পিটের কাছ থেকে প্রথমে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাতাসে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যায় বলে তাঁদের দাবি। বিষয়টি জানাজানি হতেই পিটের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে। খনির ভিতর থেকে একসঙ্গে ধোঁয়া, গ্যাস ও জল বেরিয়ে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ ঠাকুর জানান, সকালে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি পিটের কাছে ভিড় দেখতে পান। কাছে গিয়ে খনি থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন। তাঁর কথায়, “সবাই বলাবলি করছিলেন, গ্যাস বেরোচ্ছে।” এরপর কোলিয়ারির আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছয়। পাখা বন্ধ করার পর খনির ভিতর থেকে ধোঁয়া, জল ও গ্যাস বেরোতে দেখা যায় বলে তাঁর দাবি। উপর থেকে জলের শব্দও শোনা যাচ্ছিল।
এর মধ্যেই খনির নীচে থাকা দুই শ্রমিককে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিরাপদে উপরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাইরে আসার পর দু’জনেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় কোলিয়ারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। খনির ভিতর থেকে হঠাৎ গ্যাস ও জল বেরোনোর কারণ কী, তা এখনও জানা যায়নি। একই সঙ্গে গ্যাসের প্রভাবে দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে এলাকায়।
সিঁদুলি কোলিয়ারির এজেন্ট পঙ্কজ কুমার বর্মা বলেন, “একটি ঘটনা ঘটেছে। দু’জন আটকেছিলেন। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” তাঁর কথায়, গোটা এলাকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a comment