পুজোর ক’দিনে কলকাতা মেট্রোয় যে ভিড় বাড়বে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে যাত্রীসংখ্যা এ বার আগের সব হিসেব ছাপিয়ে গেল। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত ছ’দিনে মেট্রোয় যাতায়াত করেছেন ৬১.৫১ লক্ষ মানুষ। গত বছরের তুলনায় সংখ্যাটা প্রায় ১৫ লক্ষ বেশি। একদিনে সর্বাধিক যাত্রী চলাচলের রেকর্ডও হয়েছে এ বার। ষষ্ঠীর দিন মেট্রোয় সফর করেছেন ১২.০১ লক্ষ মানুষ।
গত বছর পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত মেট্রোয় যাত্রীসংখ্যা ছিল ৪৬.৫৬ লক্ষ। এ বার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১.৫১ লক্ষে। পুজোর সময়ে কলকাতার রাস্তায় যানজট এড়িয়ে দ্রুত মণ্ডপে পৌঁছতে অনেকেই মেট্রোয় যাতায়াত করেন। এ বারও সেই ছবিই দেখা গিয়েছে। ষষ্ঠীর ভিড় বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের।
পুজোর ছ’দিনে সবচেয়ে বেশি যাত্রীর ওঠানামা হয়েছে দমদম স্টেশনে। এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেছেন ৪.৯৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ। দ্বিতীয় স্থানে কালীঘাট। সেখানে যাত্রীসংখ্যা ৪.৮৩ লক্ষের বেশি। তৃতীয় স্থানে রয়েছে শিয়ালদহ স্টেশন। এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেছেন ৪.১৯ লক্ষেরও বেশি যাত্রী। পুজোর ভিড় সামলাতে তিনটি স্টেশনেই বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
পুজোর সময়ে যাত্রীদের চাপ সামলাতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। ব্যস্ত স্টেশনগুলিতে অতিরিক্ত কর্মী ও আধিকারিক মোতায়েন করা হয়েছিল। নিরাপত্তার কাজে ছিলেন রেলরক্ষী বাহিনী (আরপিএফ) এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরাও।
সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে স্টেশনগুলিতে নজরদারি চালানো হয়। ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের যাতায়াত যাতে ব্যাহত না হয়, সে দিকেও নজর রাখা হয়েছিল। কোনও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে মেডিক্যাল বুথ রাখা হয়েছিল।
পুজোর দিনগুলিতে বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করেন মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার প্রেম সাগর গুপ্তসহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। ট্রেনে উঠেও যাত্রীদের ভিড় ও পরিষেবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। পুজোর ছুটিতেও দায়িত্ব পালন করেন মেট্রোর কর্মীদের একাংশ। বিপুল যাত্রী সামলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখাই ছিল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a comment