একই বছরে দু’বার দুর্গাপুজো হতে পারে ২০২৮ সালে? দুই পঞ্জিকার হিসাব ঘিরে এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে পুজোমহলে। এমন ঘটনা নতুন নয়। ১৯৮০ সালেও দুই পঞ্জিকা মেনে আলাদা সময়ে দুর্গাপুজো হয়েছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ফের তেমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে ২০২৮ সালের পুজোর দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলায় মূলত দু’টি পদ্ধতি মেনে পঞ্জিকা তৈরি হয়—দৃকসিদ্ধ বা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত এবং সূর্যসিদ্ধান্ত। বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকাতেও সূর্যসিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়। দুই পদ্ধতিতে তিথি নির্ধারণের হিসাব আলাদা হওয়ায় কখনও কখনও পুজোর তারিখেও ফারাক দেখা দেয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৮ সালে দুই পঞ্জিকার নির্ঘণ্টে দুর্গাপুজোর ব্যবধান ১৫ দিন হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মেনে দুর্গাপুজো হয়। আবার বাংলার বহু বারোয়ারি পুজো হয় সূর্যসিদ্ধান্ত অনুযায়ী। ফলে দুই পঞ্জিকার হিসাব আলাদা হলে পুজোর দিনও আলাদা হতে পারে। তবে ২০২৮ সালে ঠিক কী হবে, তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে।

১৯৮০ সালের ছবিটা ছিল আরও চমকপ্রদ। সে বার দুই পঞ্জিকা অনুযায়ী দুর্গাপুজোর ব্যবধান ছিল প্রায় এক মাস। একটি পঞ্জিকায় যখন মহালয়া, অন্যটিতে তখন কালীপুজো। আবার এক পঞ্জিকায় মহানবমী পালনের সময় অন্য পঞ্জিকা অনুযায়ী জগদ্ধাত্রী পুজো হয়েছিল। দুই সিদ্ধান্তের হিসাবের এই ফারাক সে সময়ও নজর কেড়েছিল।

সর্বভারতীয় প্রাচ্যবিদ্যা আকাদেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারীর কথায়, ২০২৮ সালে দুই পঞ্জিকা মেনে আলাদা সময়ে দুর্গাপুজো হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর মতে, দুই পদ্ধতি অনুযায়ী পুজো হলে কোনওটিকেই ভুল বলা যায় না। দুই ক্ষেত্রেই নিজস্ব নিয়ম মেনে আচার পালন করা হবে। ভক্তেরা চাইলে দু’টি পুজোতেই অঞ্জলি দিতে পারেন।

তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে রাজি নন গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার কর্ণধার অরিজিৎ রায়চৌধুরী। তাঁদের পঞ্জিকা তৈরি হয় সূর্যসিদ্ধান্ত মেনে। তাঁর বক্তব্য, এখনও ২০২৭ সালের গণনার কাজ চলছে। সেই হিসাবেও দুই পঞ্জিকার মধ্যে তিথি নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দু’দিন নবমী পড়ছে, আর সূর্যসিদ্ধান্তের হিসাবে দু’দিন অষ্টমীর উল্লেখ রয়েছে। তাই ২০২৮ সালের নির্ঘণ্ট নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

পঞ্জিকা ব্যবসায়ী পূর্ণচন্দ্র শীলও অতীতের উদাহরণ টেনেছেন। তাঁর বক্তব্য, আগে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্তিক মাসে দুর্গাপুজো হয়েছিল, অন্যদিকে সূর্যসিদ্ধান্ত মেনে পুজো হয়েছিল আশ্বিন মাসে। ২০২৮ সালে ফের এমন হলে তা নিয়ে আলোচনা যে বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

দুই পঞ্জিকার হিসাবে সত্যিই পুজোর দিন আলাদা হলে সরকারি ছুটি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কোন পুজোর সময় স্কুল-কলেজে ছুটি দেওয়া হবে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। শাস্ত্রজ্ঞদের একাংশের দাবি, আশির দশকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু সূর্যসিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুজোর সময় ছুটি ঘোষণা করেছিলেন।বাংলার অধিকাংশ বারোয়ারি পুজো এই পদ্ধতি মেনেই হয় বলে তাঁদের বক্তব্য। তবে ২০২৮ সালে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, আর হলে সরকার কোন নির্ঘণ্ট মেনে ছুটি ঘোষণা করবে, তার উত্তর আপাতত ভবিষ্যতের হাতেই।

Leave a comment