অবসরের আগে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট না পাওয়ায় অনেক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকেই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে ৩০ জুন বা ৩১ ডিসেম্বর যাঁদের অবসরের তারিখ, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নোশনাল ইনক্রিমেন্টের সুবিধা পেনশন নির্ধারণের সময় বিবেচনা করা যেতে পারে। অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই নিয়ম নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে কর্মী ও পেনশনভোগীদের।

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সাধারণত বছরে দু’বার, ১ জানুয়ারি ও ১ জুলাই ইনক্রিমেন্ট কার্যকর হয়। কিন্তু কোনও কর্মী ৩০ জুন অবসর নিলে পরের দিন কার্যকর হওয়ার কথা থাকা ইনক্রিমেন্টটি তিনি পান না। একই সমস্যা দেখা দেয় ৩১ ডিসেম্বর অবসরের ক্ষেত্রেও। অথচ নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চাকরি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মী। এই পরিস্থিতি থেকেই নোশনাল ইনক্রিমেন্ট নিয়ে আইনি বিতর্কের সূত্রপাত।

এই বিষয়ে আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতর (ডিওপিটি) নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যোগ্য কর্মীদের পেনশন নির্ধারণের সময় নোশনাল ইনক্রিমেন্ট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে শুধু অবসরের তারিখের ভিত্তিতে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। চাকরির মেয়াদ এবং প্রযোজ্য নিয়মও খতিয়ে দেখা হবে।

পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে অবসরের সময়ের প্রাসঙ্গিক বেতন গুরুত্বপূর্ণ। তাই নোশনাল ইনক্রিমেন্টের সুবিধা মিললে পেনশনের অঙ্কেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে কত টাকা বাড়বে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতন ও নিয়মের উপর। এই সুবিধা মিললেই গ্র্যাচুইটিসহ সমস্ত অবসরকালীন পাওনা বাড়বে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

অন্যদিকে, অষ্টম বেতন কমিশন নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ১.৯ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে জল্পনা থাকলেও, সরকারি ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বেতন ও পেনশন কতটা বাড়বে, তা বলা সম্ভব নয়।

Leave a comment