“আমাকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানো হল, অথচ কেউ প্রতিবাদ করল না। লজ্জা, গ্লানি আর ভয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলাম।” সরশুনার ঘটনার কথা বলতে গিয়ে এখনও সেই যন্ত্রণার কথা মনে পড়ছে আক্রান্ত তরুণের বাবার। ঘটনার পর বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও অপমানের স্মৃতি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তাঁরা। ছেলে ও ছেলের বন্ধুও এখনও স্বাভাবিক হতে পারেননি। লোকলজ্জায় বাড়ির বাইরে বেরোতে অস্বস্তি হচ্ছে। তার উপর রয়েছে ফের হেনস্তার ভয়। তাই নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন তিনজনই।
আক্রান্ত তরুণ ও তাঁর বাবার অভিযোগ, ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে তিন থেকে চারজন এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করা হয়নি বলেও দাবি। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা কাটছে না। ওই ব্যক্তির কথায়, রবিবার সন্ধ্যার ঘটনার কথা মনে পড়লেই সবুজ পার্ক থেকে ক্ষুদিরামপল্লি পর্যন্ত যেতে অস্বস্তি হয়। পাড়ার রাস্তায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁরা।
গত রবিবার সন্ধ্যায় বেহালার সরশুনার ক্ষুদিরামপল্লির খালপাড়ের কাছে এক নাবালিকাকে চুমু খাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, ওই তরুণ, তাঁর বাবা ও তরুণের এক বন্ধুকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো হয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। এত মানুষের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও কেন কেউ প্রতিবাদ করলেন না, সেই প্রশ্নও উঠছে।
সেই সময় আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ান বাইক মেকানিক সুজয় হালদার। তাঁর গ্যারাজের সামনে দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছিলেন ওই তরুণের বাবা। পিছনে নগ্ন অবস্থায় আসছিলেন দুই তরুণ। তাঁদের সঙ্গে কয়েক জন মোবাইলে ভিডিও করছিলেন বলে অভিযোগ। সেই সময় এক যুবক সুজয়দের উদ্দেশে বলে, “মজার র্যালি চলছে। তোরাও দেখ।”
এমন দৃশ্য দেখে আর চুপ করে থাকতে পারেননি সুজয় ও তাঁর সহকর্মীরা। দুই তরুণকে গ্যারাজের ভিতরে নিয়ে যান তিনি। পরে তাঁদের বাবাকেও ডেকে আনেন। নিজেদের জামা-প্যান্ট দিয়ে তিনজনের শরীর ঢাকার ব্যবস্থা করেন তাঁরা। পরে আক্রান্তদের থানায় নিয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানাতেও সাহায্য করেন সুজয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত মণ্ডল জানান, প্রথমে এক ব্যক্তিকে নগ্ন অবস্থায় দেখে তাঁকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বলে মনে হয়েছিল। পরে দুই তরুণকে একই অবস্থায় আসতে দেখে তাঁরা হতবাক হয়ে যান। তবে সেই সময় কেউ প্রতিবাদ করেননি বলে জানিয়েছেন তিনিও।
আক্রান্ত বাবার আক্ষেপ, পাড়ার লোকজন প্রথমেই এগিয়ে এলে এমন অপমানের মুখে পড়তে হত না তাঁদের। এখন সেই সন্ধ্যার স্মৃতি আর ফের হেনস্তার আশঙ্কা নিয়েই দিন কাটছে বাবা-ছেলের।

Leave a comment