দীপাবলি এগিয়ে আসছে। মাটির প্রদীপ, দেওয়ালি পুতুল, ধুনুচি তৈরির কাজে এখন ব্যস্ত থাকার কথা মেদিনীপুরের মৃৎশিল্পীদের। কিন্তু বৃষ্টির জন্য কাজই এগোচ্ছে না ঠিকমতো। কখনও জোরে বৃষ্টি, কখনও আবার সারাদিন টিপটিপ করে জল পড়ছে। রোদ না ওঠায় শুকোচ্ছে না মাটির সামগ্রী। অথচ হাতে রয়েছে একের পর এক অর্ডার। সময়মতো কাজ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন ‘অর্ণব’ ঝড়ের প্রভাবে বিপাকে পড়া কুমোরপাড়ার শিল্পীরা।
মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজারের কুমোরপাড়ায় দীপাবলির আগে প্রতি বছরই কাজের চাপ বাড়ে। এই সময়ে মাটির প্রদীপের পাশাপাশি দেওয়ালি পুতুল, পুজোর ঘট, ধুনুচি ও তুবড়ির খোলের চাহিদা থাকে। তাই আগে থেকেই তৈরি শুরু করেন শিল্পীরা। কিন্তু এ বার বৃষ্টির দাপটে সেই কাজেই বারবার বাধা পড়ছে।
মাটির জিনিস তৈরি করার পর সেগুলি শুকিয়ে নেওয়া দরকার। তারপর হয় রং করার কাজ। কিন্তু রোদ না থাকায় শুকোতে দেরি হচ্ছে। কোথাও কাঁচা পুতুল পড়ে রয়েছে, কোথাও আবার প্রদীপ তৈরি হলেও রং করা যাচ্ছে না। ফলে নতুন সামগ্রী তৈরির কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে। উৎসবের আগে হাতে সময় কম থাকায় চাপ বাড়ছে শিল্পীদের।
মৃৎশিল্পী গৌতম দাস, কৃষ্ণা দাস, রেবতী পাল ও শঙ্কর পাল জানিয়েছেন, মাটির প্রদীপ ও পুতুলের জন্য অর্ডার আসছে প্রচুর। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কমেছে। এই অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব অর্ডার শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে শিশু-কিশোরদের দীপাবলির প্রস্তুতিতেও। দুর্গাপুজো শেষ হলেই জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় ইট ও মাটি দিয়ে দেওয়ালি ঘর তৈরির কাজ শুরু হয়। নানা নকশার সেই ঘর দীপাবলির রাতে সাজানো হয় মাটির প্রদীপ, মোমবাতি কিংবা টুনি বাল্ব দিয়ে। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে কোথাও ঘর তৈরির কাজ অসম্পূর্ণ, কোথাও আবার ভিজে মাটির জন্য কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না।
দীপাবলির আগে এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এখন বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় রয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। রোদ উঠলে দ্রুত কাজ শেষ করে অর্ডার সরবরাহের চেষ্টা করবেন তাঁরা। তবে উৎসবের আগে আবহাওয়া কবে স্বাভাবিক হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a comment