কালীপুজোর মেলায় এবার বসানো যাবে না বড় নাগরদোলা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই নির্দেশ দিয়েছে দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। পুজোর দিনগুলিতে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে ভিড় করেন বহু মানুষ। মেলাতেও থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। তাই কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে আগেভাগেই সতর্ক হয়েছে পুলিশ। পুজো উদ্যোক্তাদেরও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার ও বিধাননগর এলাকায় বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের কালীপুজো হয়। আমরা ক’জন বয়েজ ক্লাব, মোড় সম্মেলনী এডিসন, নিউটন ইয়ংস কর্নার, দিশারী সংঘ এবং সিটি অ্যাথলেটিক ক্লাবের পুজো দেখতে প্রতি বছরই ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। কয়েকটি ক্লাবের মাঠে পুজোর পাশাপাশি মেলারও আয়োজন করা হয়। নাগরদোলা-সহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা থাকায় সন্ধ্যার পর মেলায় ভিড় বাড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভিড় সামলানো ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (পূর্ব) রাসপ্রিত সিং এবং দুর্গাপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ পরিদর্শন করেন। নিরাপত্তার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়। পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে দিকেও নজর রাখছে পুলিশ।

মেলায় বড় নাগরদোলা বসানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নাগরদোলায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। ভিড়ের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

দিশারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নিতাই সরকার বলেন, “পুলিশ প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেন। পুলিশের নির্দেশিকা মেনেই মণ্ডপ তৈরি করি। দর্শনার্থীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে দিকেও আমাদের বাড়তি নজরদারি থাকে। এবারেও একাধিক নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বড় নাগরদোলা বসাতে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় প্রতিমা দর্শন করতে এসে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার পর উৎসবের সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। কালীপুজোর মেলায় যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে কথা মাথায় রেখেই বড় নাগরদোলা বসানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট।

Leave a comment