গালে ঘা, মুখ ফুলে যাওয়া ও টনসিলের তীব্র ব্যথা নিয়ে ন’দিন আগে উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিল ১১ বছরের শেখ রাশিদুল ইসলাম। বুধবার হঠাৎ পেটে ও বুকে যন্ত্রণা শুরু হয় তার। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসককে জানানোর পরেও ছেলের চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করা হয়। পরে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। কিশোরের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই বুধবার রাতে উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতালে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে শল্য বিভাগে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।

রাশিদুলের বাড়ি সাঁকরাইল থানার নলপুর এলাকার ডাহুকার মুক্তিপাড়ায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ অবস্থায় তাকে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল। ইএনটি বিভাগের অধীনে তার চিকিৎসা চলছিল।

কিশোরের মা রাবিয়ার অভিযোগ, বুধবার ছেলের পেটে ও বুকে যন্ত্রণা শুরু হলে কর্তব্যরত চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু চিকিৎসক প্রথমে তাকে দেখতে চাননি বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের জানানো হয়েছিল, রাশিদুল ইএনটি বিভাগের অধীনে ভর্তি রয়েছে। পরের দিন ওই বিভাগের চিকিৎসক এসে তাকে দেখবেন।

ছেলের কষ্ট বাড়তে থাকায় অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবেন পরিবারের সদস্যরা। সেই সিদ্ধান্তের কথা চিকিৎসককে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি তাঁদের। অভিযোগ, তখনই রাশিদুলকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার কথা বলা হয়। নার্সরা ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। মায়ের সামনেই ছটফট করতে করতে নেতিয়ে পড়ে কিশোরটি।

এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন। চিকিৎসায় গাফিলতি ও ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়ার অভিযোগ তুলে হাসপাতালের শল্য বিভাগে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনা নিয়ে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল অগ্নিহোত্রী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

পরিবারের অভিযোগ ঘিরে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইঞ্জেকশন দেওয়ার সঙ্গে কিশোরের মৃত্যুর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় তদন্তের অপেক্ষা।

Leave a comment