ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে করমর্দন না করার ছবি এখন পরিচিত। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটের ময়দানে ভারতীয় ও পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের মধ্যে হাত না মেলানোর প্রবণতা দেখা গিয়েছে। পুরুষ কিংবা মহিলা—দুই দলের ক্ষেত্রেই এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এই অলিখিত নিয়ম বজায় থেকেছে। তবে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি।
টেবল টেনিসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের খেলোয়াড়দের একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা গেল। শুধু সৌহার্দ্যের এই ছবি নয়, ম্যাচেও দাপট দেখিয়েছে ভারত। পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে রাউন্ড অফ ১৬-তে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় মহিলা দল।
ভারতের হয়ে তিনটি জয় এনে দেন সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়, সিনড্রেলা দাস এবং সৃজা আকুলা। প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দলের শুরুটাও হয়েছিল জয়ে। প্রথম ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে সুতীর্থার প্রতিপক্ষ ছিলেন আলিনা খান। তিনটি গেমেই একতরফা দাপট দেখিয়ে ৩-০ ব্যবধানে জয় পান ভারতীয় খেলোয়াড়। ম্যাচের স্কোর ছিল ১১-৩, ১১-৩, ১১-৪। খেলা শেষ হওয়ার পরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে করমর্দনের দৃশ্য দেখা যায়।
দ্বিতীয় ম্যাচেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি ভারতকে। সিনড্রেলা দাস সরাসরি তিন গেমে কালসুম খানকে হারিয়ে দেন। তিনটি গেমের স্কোর ছিল ১১-৬, ১১-৭ এবং ১১-৫। এই জয়ের ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত।
তৃতীয় ম্যাচে ফতিমা খানের বিরুদ্ধে কোর্টে নামেন সৃজা আকুলা। সেখানেও জয় আসে ভারতের। গোটা ম্যাচে মাত্র ১৩ পয়েন্ট খরচ করে ৩-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেন সৃজা। তাঁর তিনটি গেমের স্কোর ছিল ১১-৪, ১১-৪ এবং ১১-৫। ফলে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে জায়গা পাকা করে ভারত।
পহেলগাঁও হামলার পর ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ক্ষেত্রে করমর্দন না করার ছবি নিয়মিত দেখা গিয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগে এবং শেষ হওয়ার পরেও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায়নি ভারতীয় ক্রিকেটারদের। তবে সম্প্রতি হকি বিশ্বকাপে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাই-ফাইভ করতে দেখা গিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটে প্রচলিত ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতি অন্য খেলাতেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এশিয়ান গেমসে টেবল টেনিসের এই ঘটনাই সেই প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave a comment