দশমী পেরিয়ে গেলেও চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমা মণ্ডপ থেকে সরানো হয়নি। সপ্তমীর দুর্ঘটনার তদন্তের কারণে নিরঞ্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শনিবার প্রতিমা বের করে নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এ বার আর বরণ কিংবা সিঁদুর খেলা হল না। ১৯ জনের মৃত্যুর স্মৃতি তাড়া করে বেড়াচ্ছে এলাকার মানুষকে। তাঁদের কথায়, “এবার বরণ হল না। পুজোয় কোনও দোষ ত্রুটি থেকে গেল কি না জানতে পারলাম না। মা ক্ষমা করে দিও।”
শনিবার দুপুরে মণ্ডপ থেকে প্রতিমা বের করার জন্য আনা হয় ৪০ জন কুলিকে। দুপুর ২টো নাগাদ মণ্ডপের মূল কাঠামো অক্ষত রেখেই প্রতিমা বার করা হয়। কিছুক্ষণ সেন্ট্রাল এভিনিউয়ে রাখা হয়েছিল প্রতিমা। সেখানে ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারা। পুজোর শেষ পর্বে বরণ করতে না পারার আক্ষেপ ছিল অনেকেরই। সিঁদুর খেলাও হয়নি। পুজোয় কোনও ত্রুটি থেকে গিয়েছে কি না, তা জানতে না পেরে মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন তাঁরা।
তদন্তের স্বার্থে প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে সিদ্ধান্ত আটকে ছিল। বৃহস্পতিবার চোরবাগানের মণ্ডপ পরিদর্শনে যান সিটের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। প্রতিমা নিরঞ্জনে আপত্তি না থাকলেও তদন্তের প্রয়োজনে মণ্ডপের মূল কাঠামো আগের অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেন তিনি। সেই শর্ত মেনেই প্রতিমা বের করার সিদ্ধান্ত নেয় পুজো কমিটি।
মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হন বহু মানুষ। ঘটনার তদন্তে দু’টি পৃথক সিট গঠন করা হয়েছে। দুই ঘোষক-সহ এখনও পর্যন্ত ন’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্ত চলার মধ্যেই শনিবার নিরঞ্জন হল প্রতিমার। কিন্তু যে পুজো ঘিরে প্রতি বছর আনন্দে মেতে উঠতেন এলাকার মানুষ, এ বার সেই বিদায়ের দিনেও তাঁদের মনে ছিল দুর্ঘটনার ক্ষত।

Leave a comment