চোরবাগান পুজোয় দুর্ঘটনার আগে মাইকে কী ঘোষণা হয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে এ বার ধৃতদের গলার স্বর পরীক্ষা করতে চায় পুলিশ। সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়ার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনার সময়কার ঘোষণার সঙ্গে তাঁদের গলার স্বর মেলে কি না, তা পরীক্ষা করেই নিশ্চিত হতে চাইছে পুলিশ।

ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন ভিডিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কয়েকটি ভিডিওতে মাইকে নির্দেশ দেওয়ার শব্দ পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেগুলির অডিয়ো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর উদ্যোগও শুরু হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে ধৃতদের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে ওই অডিয়ো মিলিয়ে দেখা হবে।

তদন্তে মণ্ডপের বাইরে বসানো স্টল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মণ্ডপ থেকে বেরোনোর পথে কয়েকটি স্টল ছিল। সেগুলি বসানোর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা স্টল বসানোর অনুমতি দিয়েছিলেন, তা জানারও চেষ্টা চলছে।

দুর্ঘটনার আগে মাইকে ভুল ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই ঘোষণা কোথা থেকে করা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মণ্ডপের ভিতরে বাইরের শব্দ পৌঁছনোর সুযোগ কতটা ছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘোষণার সময়ের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজের সময় মিলিয়ে ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ কম ছিল বলে ওঠা অভিযোগ অবশ্য মানতে চায়নি লালবাজার। পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনার সময় পুলিশকর্মী, হোমগার্ড ও পুজোর স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন ছিলেন। বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরাও দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন অস্থায়ী হোমগার্ড ছিলেন। এক জন ইন্সপেক্টরও দায়িত্বে ছিলেন। ভিড় বাড়তে থাকায় পরে দুই ডেপুটি কমিশনারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর আগে জানিয়েছিলেন, কয়েক জন হোমগার্ড দড়ি দিয়ে গার্ডরেল তৈরি করছিলেন। ভিড়ের চাপে তা ভেঙে পড়ে। হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। তবে পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত দেখা সিসিটিভি ফুটেজে কোনও পুলিশকর্মীকে দড়ি ছেড়ে দিতে দেখা যায়নি। বরং দর্শনার্থীদের বেরোনোর পথের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে পুলিশকর্মীদের।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৬০-৭০ জনের বয়ান নেওয়া হয়েছে। আহতদের সঙ্গেও কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনার সময় কী ঘটেছিল, তা বুঝতে ফুটেজ, অডিয়ো ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাইকে ঘোষণার ঘটনায় ইতিমধ্যেই সেন্টু ও কালিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহাকে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য ধৃত কুশল মজুমদারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের কাজ এখনও চলছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশকর্তা।

Leave a comment