করোনাকালে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা জোরদার করতে কেনা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ চিকিৎসার সরঞ্জাম। সেই সরঞ্জামের একাংশ এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টে এমন তথ্য উঠে আসার পরই তদন্তে নামছে প্রশাসন। রাজ্যের সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে স্থানীয় থানায় FIR দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার একাধিক গ্রামীণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

করোনার সময় গ্রামাঞ্চলের রোগীদের মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পৌঁছে দিতে চালু হয়েছিল ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ নামে টেলিমেডিসিন পরিষেবা। এই ব্যবস্থায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির সঙ্গে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলির যোগাযোগ তৈরি করা হয়েছিল। অনলাইনে চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়ার জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের কেন্দ্রীয় অনুদানের অর্থে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম বসানো হয়।

স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু জায়গায় সেই সরঞ্জামের কোনও হদিশ নেই। কোথাও মনিটর রয়েছে, কিন্তু UPS নেই। আবার কোনও কেন্দ্রে UPS থাকলেও তার ভিতরের ব্যাটারি বা MCB পাওয়া যায়নি। কিছু জায়গায় মনিটরই উধাও। সব মিলিয়ে নিখোঁজ সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।

সরঞ্জামগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিভিন্ন আধিকারিক ও কর্মীর উপর ছিল। কোথাও মেডিকেল অফিসার, কোথাও BMOH, আবার কোথাও কমিউনিটি হেলথ অফিসার বা নার্সদের দায়িত্বে ছিল ওই সামগ্রী। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ অনুযায়ী, যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যার উপর সরঞ্জাম দেখভালের দায়িত্ব ছিল, তাঁর বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী গায়েব হয়ে যাওয়া সরঞ্জামের অর্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বেতন থেকে কেটে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর জন্য ৮৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, সেই বরাদ্দ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছিল ৮২৯ কোটি টাকা। সেই কেন্দ্রীয় অর্থের আওতায় কেনা সরঞ্জামের একাংশের হদিশ না মেলায় এবার প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ শুরু করল স্বাস্থ্য দফতর।

Leave a comment