পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সোমবার নিউ টাউনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। রাজ্যের মৎস্য দফতরের বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মৎস্যজীবীদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনা, মাছ চাষের পরিকাঠামো উন্নত করা এবং উৎপাদিত মাছের বাজার বাড়ানো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর রাজ্যের মৎস্যক্ষেত্রের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকার অনুমোদনপত্র দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’-র মাধ্যমে আরও বেশি মৎস্যজীবীকে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি বকেয়া প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মৎস্য দফতরের পোর্টালে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মৎস্যজীবীর নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। নথিভুক্তির মাধ্যমে সরকারি সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে পাহাড়ি এলাকা প্রতিটি অঞ্চলের উপযোগিতা অনুযায়ী মৎস্যচাষের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন এলাকায় নোনা জলের মাছ চাষের পাশাপাশি দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের ঠান্ডা জলের মাছ চাষের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এছাড়াও বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো শুষ্ক জেলাগুলিতে জল সংরক্ষণ এবং মৎস্যচাষের জন্য ছ’টি ‘অমৃত সরোবর’ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জলসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষের পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
বৈঠকে ইলিশ নিয়েও আলাদা পরিকল্পনার কথা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ পাঠানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইলিশকে কেন্দ্র করে পৃথক রূপরেখা রয়েছে। তবে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাছের বাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মৎস্যচাষের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Leave a comment