চায়ের সঙ্গে বাঙালির সম্পর্কটা বেশ পুরনো। আড্ডা হোক বা মন খারাপ, সকালে ঘুম ভাঙার পর কিংবা বিকেলের জমাটি আড্ডা—চা চাই-ই। কলকাতার এমন বেশ কিছু চায়ের দোকান রয়েছে, যেগুলির বয়সও অনেক। এ বার সেই পুরনো দোকানগুলিকেই নতুন করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে টি বোর্ড।
সোমবার চা নিলাম সংক্রান্ত একটি আলোচনাচক্রের আয়োজন করা হয়। সেখানে চা নিলাম ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। চা বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে অনলাইন নিলাম ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চা ব্যবসার লাইসেন্স এবং অনলাইন শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
ছোট চা চাষিরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত চায়ের সঠিক দাম পান, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পাতার দাম নিয়ে যাতে ছোট চাষিরা কোনও ভাবে সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য চা কারখানাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছে টি বোর্ড।
এর মধ্যেই পুরনো চায়ের দোকানগুলির মধ্যে সাতটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে চিত্তবাবুর দোকান, বলবন্ত সিং ধাবা, কোনা দোকান, ন্যাশনাল ইকনমিক রেস্টুরেন্ট এবং শ্রীরামপুরের নরেশবাবুর টি স্টল। এই দোকানগুলির সৌন্দর্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে দোকানগুলির পুরনো চেহারা ও ঐতিহ্যও ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে।
টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সি মুরুগান বলেন, “আমরা চাইছি, হেরিটেজ দোকানগুলির সৌন্দর্যায়ন করতে। কোনও দোকান মালিক চাইলে আমরা তা করে দেব। প্রাথমিকভাবে কলকাতার ৭টি দোকানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমন আরও দোকানের খোঁজ চলছে।”
এই দোকানগুলির সঙ্গে কলকাতাবাসীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। শুধু চা নয়, অনেক দোকানের খাবারেরও আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ফলে পুরনো চায়ের দোকানগুলিকে নতুন করে সাজানোর এই উদ্যোগে খুশি ক্রেতারাও।

Leave a comment