কালীপুজোর আগে বড়বাজারে নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার হলেন এক তরুণ। এনএস রোডের একটি পরিত্যক্ত আবাসন থেকে প্রায় ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম মহম্মদ তৌফিক। তাঁর বয়স ১৯ বছর। ওই আবাসনে এত পরিমাণ বাজি কে বা কারা মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, এনএস রোডের ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে বেআইনিভাবে বাজি রাখা হয়েছে বলে খবর আসে। এরপর সেখানে তল্লাশি চালান বড়বাজার থানার পুলিশকর্মীরা। আবাসনের ভিতর থেকে কার্টনভর্তি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার হয়। ওজন করে দেখা যায়, বাজির পরিমাণ প্রায় ১১০ কেজি। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

এই ঘটনায় বড়বাজার থানার এসআই উত্তম কুমার হালদারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় তৌফিককে। বাজিগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, বিক্রির জন্যই সেগুলি মজুত করা হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এই কারবারে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, কালীপুজোর আগে বেআইনি বাজি বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি একটি বৈঠক হয়। বৃহস্পতিবার সেই বৈঠক শেষে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তা জানান, ফানুস ও এয়ার বেলুন ওড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া এগুলি ওড়ানো যাবে না।

অন্যদিকে, নবান্নের সভাঘরে আয়োজিত বৈঠকে গ্রিন বাজি ব্যবহারের উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ। হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ ও বৃদ্ধাশ্রমের মতো সাইলেন্ট জোনের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি ফাটানো যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালীপুজোর আগে বাজির বাজারগুলিতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে নিয়ম মেনে বাজি পোড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। উৎসবের আনন্দে যাতে অন্যদের সমস্যা না হয়, সে দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যেই বড়বাজারে নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a comment