কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা নিয়ে জোরদার যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যেই বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। যোগ্য কৃষকরা যাতে কোনওভাবেই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই আবেদনের সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে অযোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল জানান, একজন কৃষক প্রধানমন্ত্রী কিষান অথবা কৃষকবন্ধু (নতুন)—এই দুই প্রকল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তাই উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে, একই ব্যক্তি কোনওভাবে দু’টি প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন কি না।
কৃষিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়ে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ১ কোটি ১ লক্ষ ৯ হাজার ৫৭১ জন কৃষকের নাম নথিভুক্ত ছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী কিষানের আওতায় রয়েছেন ৩৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ২১৩ জন কৃষক। অন্যদিকে কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পের জন্য ৪৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৫৭টি আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৩৯ লক্ষ ৫১ হাজার ১২০টি আবেদন বৈধ বলে চিহ্নিত হয়েছে।
অর্থাৎ, আবেদন জমা পড়লেই চূড়ান্তভাবে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না। যোগ্যতার মাপকাঠি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পরই উপভোক্তার তালিকা চূড়ান্ত হবে। তবে এই যাচাইয়ের কারণে কোনও প্রকৃত কৃষক যেন বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই অতিরিক্ত ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
জমির পরিমাণের ভিত্তিতেও আর্থিক সহায়তার বিভাজন রয়েছে। ৪০ শতকের কম জমি থাকা কৃষকদের বছরে ৪ হাজার টাকা এবং ৪০ শতকের বেশি জমি থাকা কৃষকদের বছরে ৬ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
ফলে এখনও যাঁরা কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পে আবেদন করেননি, তাঁদের কাছে এই বাড়তি সময় গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দিয়ে আবেদন করার সুযোগ থাকছে। যাচাই শেষে প্রকল্পের চূড়ান্ত তালিকায় কতজন কৃষকের নাম থাকে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a comment