জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের সাহায্য পেতে এবার থেকে ১১২ নম্বরে ফোন করা যাবে। মহালয়ার দিন থেকেই রাজ্যে চালু হল এই পরিষেবা। দিন-রাত যে কোনও সময় বিপদে পড়লে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের জন্য ৪৫০টি গাড়ি আনা হচ্ছে। প্রতিটি থানার জন্য একটি করে গাড়ি ও মোটরবাইক দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

পুলিশের কাজের ধরন ও পরিকাঠামোয় বদল আনতে গত পাঁচ মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন বলে জানান শুভেন্দু। শনিবার পুলিশ ও দমকলকর্মীদের সম্মান জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগে ১০০ নম্বরে ফোন করেও অনেক ক্ষেত্রে সাড়া পাওয়া যেত না। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কমিশনারেট ও কন্ট্রোল রুমের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কাজও চলছে। পুলিশকর্মীদের জন্য রেনকোটের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজ্যে পুলিশকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময়ে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশকর্মীর সংখ্যা ছিল ১০৫। এখন তা বেড়ে ১৫৫ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এই সংখ্যা ২০০ বলে জানান তিনি। পর্যাপ্ত কর্মী ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নিয়েও এদিন সরব হন তিনি। পার্কস্ট্রিটে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিকে পাথর ছোড়ার ঘটনার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, পুলিশের গায়ে হাত তুললে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া বা তাঁদের উপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মন্ত্রী।

নতুন কনস্টেবল নিয়োগের বিষয়েও জানিয়েছেন শুভেন্দু। ওবিসি সংক্রান্ত জটিলতায় নিয়োগ আটকে ছিল বলে দাবি তাঁর। সেই সমস্যা মেটাতে বিধানসভায় আইন সংশোধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রীর বক্তব্য, ১১ হাজারের বেশি কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। পুজোর আগেই তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী শুক্রবার কনস্টেবলদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, পুলিশের গাড়ি চালানোর জন্য ১৫০০ জন চালক নিয়োগ করা হয়েছে।

বীরভূমে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সম্পত্তি উদ্ধারের প্রসঙ্গও তোলেন পুলিশমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইডি, সিবিআই বা এনআইএ-র সাহায্য ছাড়াই রাজ্য পুলিশ ওই ঘটনায় প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ও গাড়ি উদ্ধার করেছিল। রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা রাখার কথাও বলেন তিনি।

আরজি কর ও বারুইপুরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের কারবারের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। নতুন জরুরি পরিষেবা, পুলিশের জন্য গাড়ি, চালক নিয়োগ এবং কনস্টেবল নিয়োগ—এই পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে রাজ্যের পুলিশি ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার কথা জানিয়েছেন পুলিশমন্ত্রী।

Leave a comment