আতঙ্ক নিয়ে বসে আছে ‘বীরভূমের বাঘ’ অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের পার্টি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালাচ্ছে তিন যুবক। মুখে কাপড় বেঁধে ভাঙচুর! শুধু ভাঙচুর নয়, অনুব্রতর কলার ধরে শাসালেনও। স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘সিউড়িতে যেন আর না দেখি।’ এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সিউড়িতে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যাচ্ছে, এদিন বিকেলে সিউড়ির পার্টি অফিসে বসেছিলেন অনুব্রত। ছিলেন কয়েক জন দলীয় কর্মী-সমর্থকও। তাঁদের সঙ্গেই কথা বলছিলেন তিনি। আচমকাই মুখে-কাপড় বেঁধে ঢুকে পড়েন তিন যুবক। হাতে লাঠি, লোহার রড। শুরু হয় এলোপাথাড়ি ভাঙচুর। গুঁড়িয়ে দেয় জানলার কাচ,টেবিল-চেয়ার। এমনকী বুকে লাঠি ঠেকিয়ে হুমকিও দেন। পরিস্থিতি দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে যান অনুব্রত মণ্ডল। শেষে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় অনুব্রতকে।
এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালাতে চালাতে অনুব্রতর দিকে এগিয়ে গেলেন তিন যুবক। চোখের নিমেষে লাঠি তুলে মারলেন সজোরে মারলেন তাঁর সামনের টেবিলে। ভেঙে খানখান হয়ে গেল টেবিলের কাচ। ভাঙা কাচ ছিটকে অনুব্রতর চোখে লাগে বলে জানা গিয়েছে।
এমনকী অনব্রতর কলার চেপে ধরে একজন। শাসানির সুরে বলে, ‘সিউড়িতে যেন আর না দেখি।’ অন্য দু’জন তখন অশ্রাব্য গালিগালাজ করছেন। আচমকাই তাদের একজন অনুব্রতর বুকে লাঠি ঠেকিয়ে মারের ভঙ্গি করে। কার্যত ভয় পেয়ে যান কেষ্ট মণ্ডল। হাতজোড় করে বলেন, ‘ঠিক আছে, এবার তোরা যা।’ জানা যাচ্ছে, ঘটনার পরেই তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্য সরকারকে নিশানা করে বলেন, “রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন যে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু আজকের ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে আইনের শাসনের বদলে বিজেপি শাসনের আইন কায়েম করতে চাইছে। গণতান্ত্রিক পরিসরে বিরোধীদল তার পার্টি অফিস খুলবে সেখানে শাসকদল ঢুকে ভাঙচুর, নেতৃত্বের উপর আক্রমণ করবে তা হতে পারে না। তাহলে সেটা ফ্যাসিবাদ হয়ে যায়।”
এই মর্মে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি।” দীর্ঘদিনের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অনুব্রত মন্ডলের উপর যে হামলা হয়েছে, যেভাবে পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা কখনোই গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। এই মন্তব্য করে তিনি জানান, ‘প্রশাসন যদি অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা না করেন তাহলে বুঝতে হবে যে আইনের শাসন কায়েম করা এটা কেবলমাত্র কথার কথা, আসলে সরকার বিজেপির শাসনের আইন কায়েম করতে চাইছে।’

Leave a comment