দু’দিনের ব্যবধানে দুই ক্যাব চালকের দেহ উদ্ধার। প্রথমে ডানকুনি, পরের দিন কলকাতার এন্টালি। দুই ঘটনার তদন্তে নেমে একই সূত্র খুঁজে পায় পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। পুলিশের দাবি, যাত্রী সেজে ক্যাব ভাড়া করে চালকদের খুন এবং তাঁদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ও সোনার গয়না লুঠ করত অভিযুক্তরা।

ধৃতদের নাম শেখ আরিয়ান, শেখ মনিরুল ও শেখ সাহাদাত। তাদের মধ্যে একজন মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা। বাকি দু’জন সোদপুরের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর শহরতলিতে একটি লুঠপাটের চক্র চালাত তারা। বিরাটি ও মধ্যমগ্রাম এলাকার ক্যাব চালকদেরই মূলত নিশানা করা হত। ধৃতদের মধ্যে একজন আগে গাড়ি চালকের কাজ করত বলে জানা গিয়েছে।

গত ৬ অক্টোবর ডানকুনির ভাদুয়া এলাকায় পা বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম রামজি কইরি। তিনি বিরাটির বাসিন্দা এবং পেশায় ক্যাব চালক ছিলেন। পরে মল্লিকবাজারের কাছ থেকে তাঁর গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরের দিন সকালে পূর্ব কলকাতার এন্টালি এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আরও এক ক্যাব চালকের দেহ। মৃত ভগবানপ্রসাদ গুপ্তাও মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

পরপর দু’টি ঘটনায় খুনের ধরন ও গাড়ি লুঠের মধ্যে মিল থাকায় তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেয় পুলিশ। ডানকুনি ও কলকাতার বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে চলে তদন্ত। সেখান থেকেই তিন অভিযুক্তের হদিশ মেলে।

পুলিশের দাবি, জেরায় অভিযুক্তরা জানিয়েছে, লুঠপাটে বাধা দেওয়ায় চালকদের পা বেঁধে খুন করা হয়েছিল। চালকদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ও সোনার গয়না নেওয়ার পর গাড়ি নিয়ে কলকাতায় চলে আসত তারা। নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি রেখে পালিয়ে যেত। গাড়িগুলি স্ক্র্যাপে বিক্রি করার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বর্তমানে তিন অভিযুক্ত ডানকুনি থানার পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এন্টালির ঘটনার তদন্তে প্রয়োজনে তাদের হেফাজতে নিতে পারে কলকাতা পুলিশও। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a comment