নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফল সামনে আসতেই তৃণমূলকে আক্রমণের সুর চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বিচারাধীন থাকার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করলেন তিনি। একই সাংবাদিক বৈঠকে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে তৃণমূলের প্রচার এবং সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু।

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবি, বিচারাধীন ভোটারদের নামের জন্য বিজেপি কিংবা নির্বাচন কমিশন দায়ী নয়। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি প্রায় ৭ লক্ষ মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারের নাম নিয়ে কেন একইভাবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে না, সেই প্রশ্নও করেন তিনি। মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে কে যেতে বলেছিল ওঁকে?”

নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠকে সংখ্যালঘু ভোট নিয়েও মুখ খোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল। বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে কিংবা ধর্মীয় স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হবে, এমন আশঙ্কা ছড়ানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কিন্তু সেই প্রচারে ভোটাররা প্রভাবিত হননি বলে দাবি তাঁর। শুভেন্দুর কথায়, “মানুষের ভয়মুক্ত, ভরসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সংখ্যালঘুরাও বলে দাবি করেন তিনি।

বন্ধুত্ব দিবস পালনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘুরা সরকারের পাশে থাকতে চেয়েই ভোট দিয়েছেন। যদিও এই ব্যাখ্যা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের অবকাশ থাকছে।

এর পরেই রেজিনগরের ফল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তৃণমূল সাংসদকে ‘রেজিস্টার্ড মাতাল’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। রেজিনগরে গিয়ে কল্যাণের আচরণ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে নিয়ে তাঁর মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর আরও কটাক্ষ, সন্ধের পর কল্যাণ স্থলে থাকেন না, জলে থাকেন।

উপনির্বাচনের ফলের পর এসআইআর এবং সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করার পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

Leave a comment