রাজ্য সরকারি কর্মীদের পর এবার সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ দেওয়ার বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল রাজ্য সরকার। মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে।
সরকার পোষিত স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই বকেয়া ডিএ-এর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও ‘গ্রান্ট ইন এইড’ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এখনও সেই সুবিধা পাননি। এই দাবিকে সামনে রেখেই আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চায়, সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী। জবাবে রাজ্যের আইনজীবী জানান, তাঁদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা বিষয় সম্পন্ন করার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলা ২০১৭ সাল থেকে চলছে। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল থেকে কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-এর একটি অংশ মেটানোর প্রক্রিয়া এগিয়েছে।
এদিকে সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে কর্মীদের তথ্য যাচাই, পাওনার হিসাব তৈরি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের মতো একাধিক ধাপ রয়েছে। তাই আদালতে রাজ্যের আশ্বাস মিললেও টাকা পাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি।
তবে হাই কোর্টে রাজ্যের বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ-এর অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন কবে থেকে এবং কীভাবে তাঁদের বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে পরবর্তী সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

Leave a comment