সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিসের ইমেল খুলতেই চমকে গেলেন কর্মীরা। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই দিনই তাঁদের শেষ কর্মদিবস। উৎসবের মরশুমে এমন অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছেন আমাজনের একাধিক কর্মী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ভারতে প্রায় ২৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে এই ই-কমার্স সংস্থা। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের অধিকাংশই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সঙ্গে যুক্ত বলে খবর। তবে কী কারণে এই সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আমাজন।

সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মাসের শুরুতে এক দফা ছাঁটাইয়ের পর ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে সংস্থার কর্মীদের মধ্যে।

চলতি মাসের গোড়াতেই আমাজনের মূল খুচরো বিক্রয় বিভাগ থেকে প্রায় ১,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফের প্রায় ২৫০ জনের চাকরি যাওয়ার খবর সামনে এল। বারবার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অন্যদিকে, ছাঁটাইয়ের খবর সামনে আসার দিনই অ্যালেক্সা-চালিত নতুন অ্যালার্ম ঘড়ি ও ফটো ফ্রেম বাজারে আনার ঘোষণা করেছে আমাজন। নতুন পণ্য আনার প্রস্তুতির মধ্যেই কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় সংস্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের পিছনে ব্যয় সঙ্কোচনের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। সংস্থার তরফে কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলা হলেও, ঠিক কী কারণে এই কর্মীদের চাকরি গেল, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

বর্তমানে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি ব্যবসার খরচ কমানো এবং কাজের ধরনে পরিবর্তন আনার দিকে নজর দিচ্ছে। আমাজনও সেই পথে হাঁটছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে সংস্থার তরফে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এক মাসের মধ্যে পরপর ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী দিনে আমাজনের কর্মী নীতিতে আরও কোনও পরিবর্তন আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

Leave a comment