প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেওয়া নীরজ চোপড়ার জ্যাভলিন নিলামে তোলা নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পাওয়া উপহার নিলামে তোলার ঘটনা নতুন নয়। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই বিভিন্ন উপহার নিলামে তুলে সেই অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের একটি প্রক্রিয়া চলে আসছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া নানা স্মারক ও উপহার জমিয়ে না রেখে নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। সেই নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ ‘কন্যা কেলাভানি নিধি’-তে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। মেয়েদের শিক্ষার প্রসার, স্কুলে তাঁদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং প্রত্যন্ত এলাকার পরিবারগুলিকে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় ‘নমামি গঙ্গে’ কর্মসূচি। গঙ্গার দূষণ কমানো ও নদী সংরক্ষণের লক্ষ্যে নেওয়া এই কর্মসূচিতে উপহার নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়।

বিভিন্ন সময়ে নিলামে ওঠা সামগ্রীর তালিকাতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। শাল, তলোয়ার, ভাস্কর্য, ছবি ও বিভিন্ন স্মারকের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের স্বাক্ষর করা ব্যাট এবং অলিম্পিক ক্রীড়াবিদদের দেওয়া জ্যাভলিনও নিলামে তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সূত্রেই নীরজ চোপড়ার দেওয়া জ্যাভলিনের নিলাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিলামের আয়োজনেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্টে বিভিন্ন উপহার প্রদর্শন ও নিলামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছু সামগ্রীর ভিত্তিমূল্য মাত্র ২০০ টাকা থেকে শুরু হয়েছিল। ফলে নিলামে অংশ নেওয়ার সুযোগ শুধু বড় ক্রেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

লেখক সুহেল শেঠের বিশ্লেষণে এই উদ্যোগের তিনটি দিকের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, দীর্ঘ সময় ধরে উপহার নিলামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত সম্মানের প্রতীক হিসেবে পাওয়া সামগ্রীকে শিক্ষা বা পরিবেশের মতো জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত করা। তৃতীয়ত, নিলামের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদেরও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।

এই প্রেক্ষাপটেই নীরজ চোপড়ার দেওয়া জ্যাভলিন নিলামে তোলার বিষয়টি আগের উপহার নিলামের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

Leave a comment