নতুন করে হিংসার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে মণিপুরে। তামেংলং জেলায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ করার সময় এক বেসরকারি বিদ্যুৎমিস্ত্রিকে গুলি করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এরপর কাংপোকপি জেলার দু’টি নাগা অধ্যুষিত গ্রামে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ২৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার তামেংলং জেলার লাসান গ্রামে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। তামেই থানা থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ওই গ্রামে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের মেরামতির কাজ করছিলেন ৩৬ বছরের পাওজাঙ্গাম চংলোই। তিনি ওয়াকোটফাই গ্রামের বাসিন্দা। কাজের সময় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর চংলোইয়ের দেহ কাংপোকপি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাকারীরা কারা, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা নাগা জনজাতির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই দাবি এখনও যাচাই করা হয়নি।
এর কিছু পরেই কাংপোকপি জেলার চালওয়া থানার অধীন মাকুই খুমান এবং মাকুই থানাম্বা গ্রামে হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে থাকা এই দুই গ্রাম নাগা অধ্যুষিত। অভিযোগ, সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা সেখানে ঢুকে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্তত ২৪টি বাড়ি এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আতঙ্কে কয়েক জন গ্রামবাসী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে তামেংলং, কাংপোকপি এবং নোনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলায় চার মহিলা-সহ অন্তত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একের পর এক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave a comment