পুজো শেষ হলেই গ্রামীণ আবাস প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ পরিবারকে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস প্রকল্পের জন্য এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৪.৫৯ লক্ষ গ্রামীণ উপভোক্তার নাম হাতে এসেছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ প্রথমে ১৫ অগস্ট থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩১ অগস্ট করা হয়েছিল। এরপর শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার যাচাই-বাছাই।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক সমীক্ষায় প্রায় ৪৪.৫ লক্ষ নাম সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও প্রায় ১০ লক্ষ আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ব্লক ও জেলা স্তরে একাধিক ধাপে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।
বিডিও অফিসের তরফে প্রায় ১০ শতাংশ আবেদন পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিডিওকে অন্তত ৫ শতাংশ আবেদন ফের পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। জেলা স্তরেও ২ থেকে ৩ শতাংশ আবেদন পুনরায় রিচেক করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোনও অযোগ্য বা ভুয়ো নাম যেন চূড়ান্ত তালিকায় না থাকে।
উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। যোগ্যতা এবং নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী টাকা পাঠানো হবে।
প্রকল্পের আওতায় সাধারণ এলাকায় পাকা বাড়ি তৈরির জন্য সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় সেই পরিমাণ ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। শৌচালয় নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত ১২ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এছাড়া বাড়ির ন্যূনতম আয়তন ২৫ বর্গমিটার রাখার শর্ত রয়েছে। রান্নার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত জায়গার ব্যবস্থাও করতে হবে। প্রথম কিস্তি পাওয়ার পর নির্মাণকাজের অগ্রগতি যাচাই করা হবে। কাজ নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
অর্থাৎ পুজোর পর আবাস প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রস্তুতিই এখন প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে টাকা পাওয়ার জন্য চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা এবং নির্ধারিত যোগ্যতার সমস্ত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন।

Leave a comment