জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় চন্দননগর। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি এখানকার আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় করেন দূরদূরান্তের মানুষ। এবার সেই উৎসবকে ঘিরেই পর্যটকদের জন্য নতুন কিছু করার ভাবনা রাজ্য সরকারের। বাবুঘাট থেকে গঙ্গাবক্ষে ক্রুজে চেপে চন্দননগর যাওয়া, প্রবীণদের মণ্ডপ ঘোরানো, এমনকী জরুরি পরিস্থিতিতে বাইক অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে রিভার ক্রুজ চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট প্যাকেজে বাবুঘাট থেকে চন্দননগর পর্যন্ত গঙ্গাবক্ষে যাত্রা করতে পারবেন তাঁরা। সেই সঙ্গে পুজো দেখার সুযোগও মিলবে। ক্রুজের পাশাপাশি ফেরি পরিষেবা চালু করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

প্রবীণ দর্শনার্থীদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট জায়গা থেকে গাড়িতে করে তাঁদের মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিমা দর্শন শেষে আবার ফিরিয়ে আনা হবে সেই কেন্দ্রেই। অন্যদিকে, পুজোর ভিড়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে দ্রুত তাঁর কাছে পৌঁছনো যায়, তার জন্য শহরের অলিগলিতে বাইক অ্যাম্বুল্যান্স চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দর্শনার্থীদের সুবিধায় একটি বিশেষ অ্যাপ চালুর কথাও ভাবছে প্রশাসন। সেখানে কোন মণ্ডপে কীভাবে পৌঁছতে হবে, কোন রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত, কোথায় যোগাযোগ করতে হবে এই সংক্রান্ত তথ্য থাকবে। মিলবে ট্রাফিক আপডেট ও জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য সেবাকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

চোরবাগানের ঘটনার পর উৎসবের ভিড় সামলানো নিয়ে প্রশাসনের সতর্কতা বেড়েছে। চন্দননগরের পুজোতেও নিরাপত্তার পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। বিসর্জনের শোভাযাত্রা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেদিকেও থাকবে বিশেষ নজরদারি।

পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। বুধবার জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করেন মুখ্যমন্ত্রী। চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a comment