উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তিস্তা-সহ একাধিক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই শুক্রবার ভোরে ধসের জেরে দার্জিলিংয়ের তাকদহ ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন এক রোগীর আত্মীয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিন ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার ভোরে সেই বৃষ্টির জেরেই তাকদহ এলাকায় ধস নামে। আচমকা মাটি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে হাসপাতালের ছাদ এবং দেওয়ালের একাংশ ভেঙে দেয়। সেই সময় হাসপাতালের ভিতরে রোগী ও তাঁদের আত্মীয় মিলিয়ে ছয় জন ছিলেন।
ধস নামার পর পাঁচ জন কোনও রকমে নিরাপদ জায়গায় বেরিয়ে আসেন। কিন্তু একজন রোগীর আত্মীয় ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। দ্রুত শুরু হয় ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
আহত ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা গুরুতর নয়। দুর্ঘটনার পর বাকি পাঁচ জনও নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
রংলি-রংলিয়ট ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তাকদহ ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতাল। দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে এই হাসপাতালটি অবস্থিত। আশপাশের বহু এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসার জন্য এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভর করেন। ফলে হাসপাতালের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রিম্বিতি এলাকাতেও ধস নেমেছে বলে খবর। পাহাড় থেকে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে ৩০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কে স্থানীয়দের একাংশ বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। ধসের কারণে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছতেও সমস্যা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

Leave a comment