বাইরে থেকে দেখলে ফলের রস ও পানীয় জলের কারখানা। কিন্তু ওই চত্বরকে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই সন্দেহ ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সেখানে অভিযান চালায় আবগারি দফতর। মুরারইয়ের হরিণপুর–জঙ্গিপুর রোডের ধারে টিনের চাল দেওয়া ওই চত্বরে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চলে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে বিদেশি মদের বোতল ও প্যাকেট, বিভিন্ন রাসায়নিক, প্লাস্টিকের ড্রামসহ বেশ কিছু সামগ্রী। আবগারি দফতরের দাবি, উদ্ধার হওয়া লিকারের বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।

আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চত্বরে ফলের রস ও পানীয় জলের কারখানা রয়েছে। তবে তার আড়ালে বেআইনিভাবে মদ তৈরির কাজ চলছিল বলে খবর আসছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সেই খবরের ভিত্তিতেই এদিন অভিযান চালানো হয়। বীরভূমের আবগারি পুলিশ সুপার তনয় গুহের নেতৃত্বে আধিকারিকরা সেখানে যান। সঙ্গে ছিল মুরারই থানার পুলিশও।

অভিযানকারীরা সেখানে গিয়ে দেখেন, গোটা চত্বর তালাবন্ধ। বাইরে কোনও ব্যানার, সাইনবোর্ড বা হোর্ডিংও ছিল না। পরে তালা খুলে ভিতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন আধিকারিকরা। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালানোর পর উদ্ধার হয় একাধিক বিদেশি মদের বোতল ও প্যাকেট। মেলে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক এবং প্লাস্টিকের ড্রামও। মদ তৈরি বা প্রক্রিয়াকরণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে এমন আরও কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে।

এই সামগ্রীগুলির ব্যবহার নিয়েই এখন তদন্ত চলছে। এগুলি জাল বিদেশি মদ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আবগারি আধিকারিকরা। আবগারি পুলিশ সুপার তনয় গুহ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া লিকারের বাজারমূল্য আনুমানিক ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। তবে অন্যান্য সরঞ্জামের মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওই জায়গায় বেআইনিভাবে মদ তৈরির প্রস্তুতি চলছিল। তবে ঠিক কতদিন ধরে এই কাজ চলছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং তৈরি মদ কোথায় সরবরাহ করা হত, তা এখনও জানা যায়নি।

ওই কারবারের সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আবগারি দফতর ও পুলিশ।

Leave a comment