পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায় নতুন খনি প্রকল্পের সূচনা ঘিরে কর্মসংস্থানের আশা দেখছেন এলাকার বাসিন্দারা। ইসিএল মাইনস প্রাইভেট লিমিটেড ও রেশমি গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে ২৫ বছরের এই প্রকল্পের ভূমিপুজো হল সোমবার। প্রকল্প চালু হলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়া এবং আশপাশের গ্রামগুলির উন্নয়নের উপরেও জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থা।

ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামুড়িয়ার বিধায়ক ডাঃ বিজন মুখোপাধ্যায়। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের ফলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। নিজের বিধানসভা এলাকায় এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প শুরু হওয়ায় তিনি খুশি। এলাকার স্বার্থে প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

সংস্থার প্রধান প্রমোদকুমার দ্বিবেদী জানান, আগামী ২৫ বছর ধরে প্রকল্পটি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদনের পাশাপাশি সংলগ্ন গ্রামগুলির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষ যাতে এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হন, সে দিকেও নজর রাখবে সংস্থা।

নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় যুবকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রমোদকুমার দ্বিবেদী। তাঁর বক্তব্য, কারখানা চালু হলে প্রায় ৯০ শতাংশ স্থানীয় বেকার যুবককে চাকরির সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই আশ্বাসে এলাকার চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে কতগুলি পদে নিয়োগ হবে এবং কবে থেকে সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা এখনও জানা যায়নি।

খনি প্রকল্পকে ঘিরে শুধু সরাসরি চাকরির সুযোগ নয়, পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহের মতো ক্ষেত্রেও কাজ বাড়তে পারে। তাতে উপকৃত হতে পারেন এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরাও। তবে প্রকল্পের কাজ কতটা এগোয় এবং নিয়োগের পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার উপরেই অনেক কিছু নির্ভর করছে।

জামুড়িয়ায় এই প্রকল্পের সূচনার পর এখন নজর স্থানীয় যুবকদের নিয়োগের দিকে। সংস্থার ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে এলাকার বেকারদের একাংশের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামগুলির উন্নয়নে প্রকল্পটি কতটা ভূমিকা নেয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a comment