নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় প্রত্যাশিত হলেও উপনির্বাচনের ফল ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে কংগ্রেসের দ্বিতীয় স্থানে থাকা। তৃণমূলকে পিছনে ফেলে কংগ্রেসের এই ফল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারি কি ভোটের সমীকরণে কোনও প্রভাব ফেলেছে? এই প্রশ্নের মুখে অবশ্য কংগ্রেসকে গুরুত্ব দিতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “কংগ্রেস মরা দল। রাহুল গান্ধীকে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেও ওদের কিছু হবে না।”
১৫ রাউন্ডের গণনা শেষে নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ২২ হাজার ১৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপির হাসিরানি রথ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর প্রাপ্ত ভোট প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি। এই কেন্দ্রে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে কংগ্রেসের উঠে আসা নিয়েই এখন চর্চা চলছে। বিশেষ করে ভোটের আগে মিলনের গ্রেফতারি এবং প্রায় ১২ দিন জেলে থাকার পর অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পাওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দু’টি কেন্দ্র থেকেই লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দুই আসনেই জয়ের পর ভবানীপুরের বিধায়ক পদ রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই উপনির্বাচন হয় এই কেন্দ্রে। ভোটের আগে তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই ঘিরেও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কংগ্রেসের মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই গ্রেফতার হন মিলন। তাঁর গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করা হয়, মিলনের গ্রেফতারির কারণে কি ভোটারদের সমর্থন পেয়েছে কংগ্রেস? নন্দীগ্রামে কি হাতশিবিরের উত্থান হচ্ছে? জবাবে সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সমর্থকদের একাংশ কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন। গতবারও তৃণমূলের ভোট ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, আগের নির্বাচনে তিনি ১ লক্ষ ৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এবারও তৃণমূলের ভোটের একাংশ কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
মিলন প্রধানের গ্রেফতারি নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও মানতে চাননি শুভেন্দু। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ওয়ারেন্ট কার্যকর করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের একটি খুনের মামলা আদালতে বিচারাধীন ছিল বলে জানান তিনি। সেই মামলায় বামপন্থীরাও আদালতে সওয়াল করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রামে বিজেপির বড় ব্যবধানে জয় হলেও কংগ্রেসের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভোটের ফলাফলে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। মিলনের গ্রেফতারি ভোটে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও শুভেন্দু সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। বরং কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই কটাক্ষ করেছেন তিনি।

Leave a comment